জিডিপির প্রবৃদ্ধি
ভিত্তি বছর পরিবর্তিত হয়নি ৪ বছরে, ত্রৈমাসিক কবে
এখন থেকে তিন মাস পরপর জিডিপির তথ্য প্রকাশ করা হবে। এরপরই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে আদৌ কি তা সম্ভব।
মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির ভিত্তি বছর পরিবর্তন করতে চার বছর ধরে চেষ্টা করে না পারলেও তিন মাস পরপর জিডিপির প্রবৃদ্ধির তথ্য দিতে চায় পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্দেশিকা মানতে গিয়ে ত্রৈমাসিক তথ্য দেওয়ার কাজ শুরু করেছে সরকারি সংস্থাটি। গত বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ খবর জানিয়েছে বিবিএস। তবে কবে থেকে জিডিপির ত্রৈমাসিক তথ্য মিলবে, সেটি বলেননি সংস্থাটির কর্মকর্তারা।
বিবিএসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখন জিডিপি প্রবৃদ্ধি পরিমাপ করা হয় ২০০৫-০৬ অর্থবছরকে ভিত্তি ধরে। এটি পরিবর্তন করে ২০১৫-১৬ অর্থবছর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ২০১৭ সালে। কিন্তু গত চার বছরেও ভিত্তি বছর পরিবর্তন করতে পারেনি সংস্থাটি। কয়েক বছরে জিডিপির ভিত্তি বছর পরিবর্তন করতে না পারলেও এখন ত্রৈমাসিক তথ্য দিতে চায় বিবিএস।
জানতে চাইলে বিবিএসের জাতীয় মূল্য ও মজুরি শাখার পরিচালক জিয়াউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘জিডিপির ভিত্তি বছর পরিবর্তনের সব ধরনের কাজ শেষ। আমরা প্রস্তাবটি উপদেষ্টা কমিটিতে পাঠিয়েছি।’ তবে কবে নতুন ভিত্তি বছর কার্যকর হবে, সেটি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি। জিডিপির ত্রৈমাসিক তথ্য দেওয়ার প্রসঙ্গে জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘অনেক দপ্তরে ত্রৈমাসিক তথ্য সংরক্ষিত হয় না। কীভাবে তাদের কাছ থেকে ত্রৈমাসিক তথ্য মিলবে, সে জন্য সবার সঙ্গে বৈঠকে বসছি।’ ত্রৈমাসিক তথ্য কবে থেকে দেওয়া সম্ভব হবে, সেটি এখনো বলার সময় হয়নি বলে জানান তিনি।
অনেক দপ্তরে ত্রৈমাসিক তথ্য সংরক্ষিত হয় না। কীভাবে তাদের কাছ থেকে ত্রৈমাসিক তথ্য মিলবে, সে জন্য সবার সঙ্গে বৈঠকে বসছি। ত্রৈমাসিক তথ্য কবে থেকে দেওয়া সম্ভব হবে, সেটি এখনো বলার সময় হয়নি।জিয়াউদ্দিন আহমেদ, পরিচালক, জাতীয় মূল্য ও মজুরি শাখা, বিবিএস
বিবিএসের কর্মকর্তারা জানান, জিডিপির ত্রৈমাসিক তথ্য দিতে গিয়ে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হবে সংস্থাটিকে। প্রথমত, কৃষি খাতে যেসব ফসল উৎপাদিত হয়, সেগুলো কোনটি কোন মাসে যুক্ত হবে, তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হবে। আবার সরকারের অনেক দপ্তর তাদের তথ্য বছরওয়ারি সংরক্ষণ করে থাকে। ওই সব দপ্তর কবে থেকে ত্রৈমাসিক তথ্য সংরক্ষণ করবে, না করলে বছরওয়ারি তথ্যকে কীভাবে ত্রৈমাসিকে সংযোজন করা হবে, তা নিয়েও জটিলতা তৈরি হবে। তথ্যের গরমিলের কারণে কোনো সময় জিডিপির প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পারে, আবার কোনো সময় বেড়ে যেতে পারে। যে তিন মাসে প্রবৃদ্ধি কমবে, সরকার সেটিকে প্রকাশ করতে দেবে কি না, তা নিয়েও আছে অনিশ্চয়তা।
উদাহরণ দিয়ে এক কর্মকর্তা বলেন, ২০১৭ সালে শ্রমশক্তি জরিপ তিন মাস পরপর দেওয়া শুরু করেছিল বিবিএস। একসময় হঠাৎ বেকারের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সরকার বিব্রত হতে পারে, সেই আশঙ্কায় ত্রৈমাসিক শ্রমশক্তি প্রতিবেদন দেওয়া বন্ধ করে দেয় বিবিএস। আবার করোনাকালে এক বছরের বেশি সময় জিডিপির তথ্য প্রকাশ করেনি বিবিএস। প্রবৃদ্ধি কম হয়েছে, সেটি সামনে না আনতেই সরকারের পক্ষ থেকে চাপ থাকায় ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির তথ্য এক বছর পর প্রকাশ করা হয়েছে। তা ছাড়া ত্রৈমাসিক তথ্য প্রকাশ করার মতো সক্ষমতা বিবিএসের আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এসব কারণে তিন মাস পরপর জিডিপির ত্রৈমাসিক তথ্য দেওয়া কঠিন হবে।
এক বছরে দেশে যেসব পণ্য ও সেবা উৎপাদিত হয়, তার মোট বাজারমূল্যকে জিডিপি বলা হয়। এটি একটি বার্ষিক হিসাব। একটি অর্থবছরকে ভিত্তি ধরে এ হিসাব করা হয়। ১০ বছর পরপর ভিত্তি বছর পরিবর্তনের নিয়ম রয়েছে। নতুন নতুন খাত যাতে হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়, তার জন্যই ভিত্তি বছর পরিবর্তন করা হয়।