বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আড়ংয়ের স্থানীয় কর্মকর্তারা প্রথম আলোকে জানান, নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং কারু ও হস্তশিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ১৯৭৮ সালে আড়ংয়ের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে এ জেলায় আড়ংয়ের দুটি উৎপাদনকেন্দ্র রয়েছে। এর একটি জেলা শহরের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে জেলা পুলিশ লাইনসের সামনে, অপরটি সদর উপজেলার গড়পাড়া এলাকায়। কেন্দ্র দুটির অধীনে রয়েছে ১০৮টি উপকেন্দ্র, যেগুলোতে কাজ করেন গ্রামীণ নারীরা। উপকেন্দ্রগুলো থেকে পোশাকের জোগান আসে বেশি। দেশজুড়ে ক্রেতাদের কাছে এসব পোশাকের বেশ চাহিদা রয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দুটি উৎপাদনকেন্দ্র ও কয়েকটি উপকেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, শিশু, তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সের মানুষের জন্যই বৈচিত্র্যময় নকশার বিভিন্ন ধরনের পোশাক তৈরির কাজে এখন ভীষণ ব্যস্ত সময় পার করছেন কর্মীরা। ঈদ সামনে রেখে এসব পোশাক আড়ংয়ের ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরের শোরুমগুলোতে যাবে। ঐতিহ্যবাহী এ ব্র্যান্ডের যেসব পণ্য মানিকগঞ্জে তৈরি হচ্ছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—পাঞ্জাবি, শাড়ি, থ্রি–পিস, লেডিস টপ, লেডিস লং পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শিশুদের পোশাক ইত্যাদি। এ ছাড়া এখানে লাইফস্টাইল পণ্যও যেমন বিছানার চাদর, দরজা ও জানালার পর্দা, কুশন ইত্যাদি তৈরি হচ্ছে।

২০২০ ও ২০২১ সালে করোনার কারণে উৎপাদন অর্ধেকের বেশি কমে যায়। করোনার প্রভাব কমে যাওয়ায় সম্প্রতি উৎপাদন আবার বাড়তে শুরু করেছে। এবারের ঈদে মানিকগঞ্জ থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রায় পৌনে দুই লাখ পোশাক পাঠানোর অর্ডার রয়েছে।
অজিত সরকার, ব্যবস্থাপক, গড়পাড়া উৎপাদনকেন্দ্র, আড়ং, মানিকগঞ্জ

উৎপাদনকেন্দ্রের কর্মীরা জানান, পাঞ্জাবি ও শাড়ি তৈরি হচ্ছে এন্ডি সিল্ক, সিল্ক, মসলিন, কটন, ভিসকস—এসব কাপড় দিয়ে। থ্রি–পিস সাধারণত কটন কাপড়েই তৈরি হয়। আর ভয়েল ও শতভাগ সুতি কাপড়ে তৈরি হয়ে থাকে শিশুদের বিভিন্ন পোশাক। সেই সঙ্গে হ্যান্ড এমব্রয়ডারি, মেশিন এমব্রয়ডারি, ইরি এমব্রয়ডারি, ব্লক প্রিন্ট, স্ক্রিন প্রিন্ট এবং বোম্বারি প্রিন্টের বিভিন্ন নকশার পোশাকও তৈরি করা হয়। মানিকগঞ্জের প্রধান দুটি উৎপাদনকেন্দ্রের পাশাপাশি উপকেন্দ্রগুলোতেও পাঞ্জাবি, থ্রি–পিস, ফতুয়া, শিশুদের পোশাক প্রভৃতি তৈরি হয়।

আড়ংয়ের কর্মকর্তারা জানান, এখানে তাঁদের ব্র্যান্ডের পোশাক উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন তিন হাজারের বেশি কর্মী। তাঁদের অধিকাংশই গ্রামীণ নারী।

আড়ংয়ের মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া এলাকার উৎপাদনকেন্দ্রে বেশ কয়েকটি তাঁতযন্ত্র। সেখানে সুতা থেকে সিল্কের কাপড় বোনা হয়। এই কাপড় মূলত পাঞ্জাবি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এই কেন্দ্রে শাড়ি, পাঞ্জাবি ও থ্রি–পিসের কামিজে স্ক্রিন প্রিন্ট এবং ব্লক প্রিন্টের কাজ হচ্ছে। এ ছাড়া কাপড় সেলাইয়েরও কাজ চলছে।

উৎপাদনকেন্দ্র থেকে পাঠানো চাহিদা অনুযায়ী উপকেন্দ্রে বিভিন্ন পোশাকের কাজ হয়। প্রতি মাসে ৮০০ থেকে ১ হাজার পোশাকের নকশা করাসহ অন্যান্য কাজ করা হয় এখানে।
শিল্পী সাহা, ইনচার্জ, আলী নগর উপকেন্দ্র, আড়ং, মানিকগঞ্জ

এ উৎপাদনকেন্দ্রের এক কিলোমিটারের মধ্যেই আলীনগর গ্রামে রয়েছে উপকেন্দ্র। দোচালা টিনের ঘরের উপকেন্দ্রটিতে ১৫–২০ জন নারীকে পোশাকের বিভিন্ন কাজ করতে দেখা গেল। উপকেন্দ্রটির ইনচার্জ শিল্পী সাহা প্রথম আলোকে জানান, এখানে হাতের কাজের নকশা করার পাশাপাশি বোতাম লাগানো হয়। এ ছাড়া পাঞ্জাবি ও কামিজের হাতায় এমব্রয়ডারির কাজ করা হয়। এ ছাড়া শাড়ি ও কামিজে টার্সেল লাগানো হয়।

শিল্পী সাহা আরও বলেন, আড়ংয়ের উৎপাদনকেন্দ্র থেকে পাঠানো চাহিদা অনুযায়ী উপকেন্দ্রে বিভিন্ন পোশাকের কাজ করা হয়। প্রতি মাসে ৮০০ থেকে ১ হাজার পোশাকের নকশা করাসহ অন্যান্য কাজ করা হয় এখানে।

গড়পাড়া উৎপাদনকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা অজিত সরকার জানান, ২০১৯ সাল পর্যন্ত আমাদের উৎপাদন ব্যবস্থা স্বাভাবিক ছিল। পরে দুই বছর ২০২০ ও ২০২১ সালে করোনার কারণে উৎপাদন অর্ধেকের বেশি কমে যায়। করোনার প্রভাব কমে যাওয়ায় সম্প্রতি উৎপাদন আবার বাড়তে শুরু করেছে। এবারের ঈদে মানিকগঞ্জ থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রায় পৌনে দুই লাখ পোশাক পাঠানোর অর্ডার রয়েছে। বেশির ভাগ পোশাক ইতিমধ্যে পাঠানো হয়েছে। বাকি পোশাক এক সপ্তাহের মধ্যে পাঠানো হবে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) ব্র্যাকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে আড়ংয়ের মানিকগঞ্জ জেলা শহরের উৎপাদনকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. শাহ আলম গাজী বলেন, নান্দনিকতা ও সাশ্রয়ী দামের কারণে সারা দেশে এ ব্র্যান্ডের পোশাকের বেশ চাহিদা ও কদর রয়েছে। তিনি বলেন, ‘দেশে আমাদের আউটলেট ২১টি। দেশের হস্ত ও কারুশিল্পকে এগিয়ে নেওয়া, গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনই আমাদের লক্ষ্য। আড়ংয়ের মুনাফা দেশের দরিদ্র মানুষের কল্যাণেই ব্যয় হয়ে থাকে।’

মানিকগঞ্জ শহরে আড়ংয়ের উৎপাদনকেন্দ্রের সামনে ছোট আকারের একটি শোরুম আছে। এ শোরুমেও আড়ংয়ের পোশাক বিক্রি হয়।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন