default-image

বাসাবাড়ি কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান—সবখানেই এখন থাই গ্লাসের ব্যবহার বাড়ছে। এর ক্রমবর্ধমান চাহিদা সামনে রেখে এবার থাই গ্লাসের বিকল্প হিসেবে প্রথমবারের মতো ডাবল গ্লেজ দরজা–জানালা উৎপাদন শুরু হতে যাচ্ছে। মৌলভীবাজারের শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিশেষ ধরনের এ কাচ তৈরি করবে ‘ডাবল গ্লেজিং লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। আজ বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে কারখানাটির নির্মাণকাজ শুরু হবে।

সরকার সারা দেশে যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে, সেগুলোর মধ্যে মৌলভীবাজারের শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল একটি। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। সিলেট বিমানবন্দর থেকে ৫৫ কিলোমিটার দূরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে শেরপুর নামক স্থানে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে সরকারি উদ্যোগে। যাতায়াতের ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় অর্থনৈতিক অঞ্চলটিকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পাঁচ বছর পর এসে সেখানে কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু হচ্ছে। এর মাধ্যমে মূলত মৌলভীবাজারেই ভারী ও বড় শিল্পকারখানা স্থাপনের কাজ শুরু হচ্ছে। বর্তমানে মৌলভীবাজারে বড় ও ভারী কোনো শিল্পকারখানা নেই।

অর্থনৈতিক অঞ্চলের তদারকি সংস্থা বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) তথ্য অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার মোট চারটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলে কারখানা নির্মাণের কাজ শুরু করবে। ডাবল গ্লেজিং লিমিটেডের পাশাপাশি অন্য যে তিনটি কোম্পানির কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু হবে, সেগুলো হলো পলমল গ্রুপের আসওয়াদ কম্পোজিট মিলস, আয়েশা ক্লথিং লিমিটেড এবং গ্রেটওয়াল সিরামিকস লিমিটেড। এর মধ্যে আসওয়াদ কম্পোজিট ও আয়েশা ক্লথিং পলমল গ্রুপের দুই প্রতিষ্ঠান।

বিজ্ঞাপন

ডাবল গ্লেজিং লিমিটেডের পরিচালক (অপারেশন) মনোজাহা পলি ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ডাবল গ্লেজিং কাচ থাই গ্লাস থেকে পুরোপুরি ভিন্ন। বিশেষ ধরনের এই কাচ দরজা–জানালাসহ বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহার করা যাবে। এখন সীমিত পরিসরে সিলেটে এই কাচ তৈরি করা হচ্ছে। ২০০৮ সালে বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। এখন বড় পরিসরে উৎপাদনের জন্য অর্থনৈতিক অঞ্চলে কারখানা তৈরির জন্য জমি নিয়েছেন।

বেজা সূত্রে জানা যায়, ডাবল গ্লেজিং শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলে তিন একর জমি পাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ৮১ লাখ ডলার বা প্রায় ৬৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে কোম্পানিটি। এ ছাড়া শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলে বস্ত্র কারখানা তৈরিতে মোট ১৪ একর জমি পেয়েছে পলমল গ্রুপ। এর মধ্যে সাত একর আসওয়াদ কম্পোজিটের নামে আর সাত একর গ্রুপের অপর প্রতিষ্ঠান আয়েশা ক্লথিং লিমিটেডের নামে। এ ছাড়া গ্রেটওয়াল সিরামিকস লিমিটেড জমি পেয়েছে ২৫ একর। তিন গ্রুপের চার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলে সর্বোচ্চ জমি পেয়েছে গ্রেটওয়াল। গ্রেটওয়াল সিরামিকস সাড়ে তিন কোটি ডলার বা প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে টাইলস তৈরির কারখানা স্থাপনে। এতে এক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।

গ্রেটওয়াল সিরামিকসের ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেশে ফ্লোর টাইলসের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। দেশের বাজারের পাশাপাশি আমরা বিদেশেও টাইলস রপ্তানি করব। সে জন্য শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলে নতুন কারখানা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এদিকে পলমল গ্রুপ তাদের দুই কারখানায় সব মিলিয়ে মোট সাড়ে আট কোটি ডলার বা ৭২২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। আর পাঁচ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে গ্রুপটির দাবি। জানতে চাইলে পলমল গ্রুপের অর্থ বিভাগের প্রধান কাজী আব্দুল মুহিত প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা শ্রীহট্টে শতভাগ রপ্তানিমুখী কম্পোজিট কারখানা করব। সেখানে দৈনিক ৫০ টন নিট ফ্যাব্রিকস উৎপাদিত হবে। বর্তমানে নিট ফ্যাব্রিকস বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

বেজার তথ্য অনুযায়ী, শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলের আকার ৩৫২ একর। এর মধ্যে ২৪০ একর জমিতে কারখানা নির্মিত হবে। বাকি ১১২ একর জমিতে জলাধার তৈরি করা হবে। এরই মধ্যে কারখানার জন্য বরাদ্দকৃত সব জমি বরাদ্দ হয়ে গেছে। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি জমি পেয়েছে ডিবিএল গ্রুপ। তারা পেয়েছে ১৭০ একর জমি, যেখানে এই গ্রুপ ১৯টি কারখানা করবে। এ ছাড়া জমি পেয়েছে আবদুল মোনেম গ্রুপসহ দেশের বড় বড় বেশ কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান। তবে সবার আগে কারখানার নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে চারটি প্রতিষ্ঠানের।

জানতে চাইলে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলে সব মিলিয়ে প্রায় ১৫০ কোটি ডলার বা ১৩ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে। কর্মসংস্থান হবে প্রায় ৫০ হাজার লোকের। আজ চারটি কারখানার নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে। বাকিগুলোর কাজও ধাপে ধাপে শুরু হবে।

বিজ্ঞাপন
অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন