সবচেয়ে বেশি কর্মজীবী নারী রংপুর বিভাগে

ছবি: প্রথম আলো

দেশে এলাকা ভিত্তিতে সবচেয়ে বেশি কর্মজীবী নারী রংপুর বিভাগে। সেখানকার ৩৬ শতাংশ নারী কাজ করেন। আর ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগে সর্বনিম্ন ৮ শতাংশ নারী কাজ করেন। শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে ২২ দশমিক ৯৫ শতাংশ কর্মজীবী নারী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন, তবে ২০ শতাংশের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। পেশাগতভাবে সবচেয়ে বেশি ৫৩ দশমিক ৮ শতাংশ রয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও বনজ খাতে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল রোববার ‘বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ভূমিকা’ শীর্ষক এক অনলাইন আলোচনায় গবেষণার তথ্য তুলে ধরেন সানেমের গবেষণা পরিচালক সায়মা হক ও রিসার্চ ইকোনমিস্ট মাহতাব উদ্দিন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান।

ওয়ার্ল্ড ভিশনের ইউপিজি, এনএসভিসি, নবযাত্রা—এ তিন প্রকল্পের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের (ডব্লিউইই) মূল্যায়ন, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং জিডিপির মধ্যে সম্পর্কের পরিমাণ নির্ধারণ করাই ছিল এ গবেষণার মূল উদ্দেশ্য। এ জন্য বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা, সাতক্ষীরা, জামালপুর, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর ও সুনামগঞ্জের ৮৫০টি খানায় ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীদের ওপর জরিপটি চালানো হয়।

জরিপে অংশগ্রহণকারী নারীদের মধ্যে ৬১ দশমিক ৮ শতাংশ সরাসরি প্রকল্পগুলোর সদস্য। ১৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ নারী সুবিধাভোগকারী পরিবারের সদস্য। আর ২৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ নারী কোনো প্রকল্পের সদস্য নন।

গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিবারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে শহরাঞ্চলে নারীপ্রধান পরিবার রয়েছে ১২ দশমিক ১২ শতাংশ। গ্রামাঞ্চলে এ হার ১০ দশমিক ৩২। প্রায় ১০ দশমিক ৯৪ শতাংশ পরিবারে নারী মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী এবং স্বামী কিংবা শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেন ৩৯ দশমিক ৩১ শতাংশ নারী। ২০ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবারে নারী কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় অংশ নেন না।

নারীর কর্মসংস্থান কীভাবে জিডিপিতে প্রভাব ফেলে সে সম্পর্কে সানেম বলছে, নারীর কর্মসংস্থান ১ শতাংশ বাড়লে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পায় দশমিক ৩১ শতাংশ।