এর পাশাপাশি বার্ষিক টার্নওভার বা লেনদেন আগের তিন বছরে কমপক্ষে ৫ কোটি টাকা করে হতে হবে এবং আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকের বার্ষিক আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ কমপক্ষে ৫ কোটি টাকা হতে হবে।

এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও এ কে খান গ্রুপের পরিচালক আবুল কাসেম খান বলেন, ‘আমাদের অনেক দিনের দাবি ছিল, এইও সুবিধা উন্মুক্ত করা হোক। শেষ পর্যন্ত তা উন্মুক্ত করার উদ্যোগটি খুব ভালো। এতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও দ্রুততর হবে। আমদানি-রপ্তানি পর্যায়ে যেসব ঝামেলা হয় তা নিরসন হবে। আশা করি, ভালো ও স্বনামধন্য কোম্পানিগুলোই সুবিধাটি পাবে।’

১০ বছরের অপেক্ষা শেষ হচ্ছে

২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ‘নাইন–ইলেভেন’ (৯/১১) ঘটনার পর পণ্যের নিরাপদ চলাচলের উদ্যোগ নেয় বড় দেশগুলো। ২০০৫ সালে পণ্যের নির্বিঘ্ন চলাচলে সেইফ ফ্রেমওয়ার্ক চালু করে ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশন (ডব্লিউসিও)। সেখানে অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর (এইও) ব্যবস্থা চালুর বিধান রাখা হয়েছে। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠকে বাণিজ্য সহায়তা চুক্তি হয়। এতে বাংলাদেশও সই করে। ওই চুক্তির ৭ দশমিক ৭ অনুচ্ছেদে এইও ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে।

এনবিআর ২০১৩ সালে প্রথম এইও ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেয়। বিভিন্ন দেশের এইও সুবিধাগুলো মূল্যায়ন করে প্রায় পাঁচ বছর পর ২০১৮ সালের গত ২৮ জুন এইও বিধিমালা জারি করা হয়। ওই বছরের ডিসেম্বরে দেশের তিনটি ওষুধ কোম্পানিকে পরীক্ষামূলকভাবে এইও সুবিধা দেওয়া হয়। কিন্তু করোনার জন্য পরে আর অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে এই সুবিধা দেওয়া যায়নি। অবশেষে ১০ বছরের অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে।

এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই করে চলতি বছরের মধ্যেই এইও সনদ দেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তিশালী ভিত্তি, সুনাম, কর প্রতিপালন—এসব বিষয় দেখা হবে। তিনি মনে করেন, এইও সুবিধা পুরোপুরি চালু হলে দেশে আমদানি-রপ্তানির পরিবেশ আরও ব্যবসাবান্ধব ও সহজ হবে।

এইও ব্যবস্থার সুবিধাসমূহ

এনবিআরের বিধিমালা অনুযায়ী, এইও সনদধারীরা ১০ ধরনের সুবিধা পাবে। এর মধ্যে অন্যতম হলো কাস্টমস হাউস বা শুল্ক স্টেশনের পরিবর্তে তারা নিজস্ব আঙিনায় পণ্যের চালানের কায়িক পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ পাবে। তাদের পণ্য জাহাজ বা উড়োজাহাজ থেকে কিংবা সীমান্ত থেকে খালাস হয়ে সোজা গুদামে চলে যাবে। এই প্রক্রিয়া যাতে দ্রুত শেষ হয়, সে জন্য শুল্ক বিভাগের বিশেষ দল কাজ করবে। এ ছাড়া বন্দরে পণ্য আসার আগেই বিল অব এন্ট্রি দাখিলসহ শুল্কায়নের কাজ শেষ করা যাবে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে এইও সংক্রান্ত মিউচুয়াল রিকগনিশন অ্যাগ্রিমেন্টে (এমআরএ) রয়েছে এমন দেশগুলোর বন্দরেও একই সুবিধা পাবে এইও সনদধারী প্রতিষ্ঠানগুলো। অবশ্য এখন পর্যন্ত কোনো দেশের সঙ্গে এই চুক্তি হয়নি। তবে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারস্পরিক সুবিধা দেওয়ার জন্য এ ধরনের প্রায় ১০০টি চুক্তি আছে।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন