বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দেশের উন্নয়ন হচ্ছে ঠিক, কিন্তু সেই সঙ্গে শ্রমজীবী বা শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নয়ন হচ্ছে না। অর্থনীতিবিদ রিজওয়ানুল ইসলামের এই কথাটি উদ্ধৃত করে রেহমান সোবহান বলেন, দেশে গত ১০ বছরে শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা যে হারে বেড়েছে, সেই হারে শ্রমিকদের মজুরি বাড়েনি। শ্রমিকেরা যে হারে মূল্য সংযোজন করছেন, সেই অনুপাতে মজুরি পাচ্ছেন না। ফলে দেশে বড় ধরনের কাঠামোগত অন্যায্যতা বিরাজ করছে দেশে। এটা নিরসনে কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।

দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন রেহমান সোবহান। ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর। তাই প্রায়ই তিনি প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির তুলনা টানেন। আজ তিনি বলেন, জাতি স্বাধীনতা পেয়েছে, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর মুক্তির সংগ্রাম অনেক জটিল বিষয়। আর বঙ্গবন্ধু শুধু বিদেশি শাসকদের হাত থেকে জাতিকে স্বাধীন করতে চাননি, দেশীয় শোষকদের হাত থেকেও মুক্ত করতে চেয়েছেন। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের অর্জন অনেক। পাকিস্তানকে আমরা প্রায় সব সূচকেই ছাড়িয়ে গেছি। কিন্তু সমাজে বৈষম্য বেড়েছে এবং রাজনীতির পরিবেশ অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়নি। এই বিষয়গুলো জাতির আমলে নিতে হবে।

স্বাধীনতার পর দেশের সমাজ বঙ্গবন্ধুর শোষণমুক্ত সমাজের ধারণা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে বলে মন্তব্য করেন রেহমান সোবহান। তিনি বলেন, দেশের শাসনব্যবস্থা এখন অন্যায্য হয়ে উঠেছে। অন্যায্য শাসন ব্যবস্থা তিনি ব্যাখ্যা করেন এভাবে—দেশে আইন, নিয়মকানুন বা আইনের শাসন সবই আছে, কিন্তু এসব সবার বেলায় একইভাবে প্রযোজ্য হয় না। এসব বিপ্লবী বিষয় না হলেও স্বাধীনতার সংগ্রামে জাতির কাছে এসব অঙ্গীকার করা হয়েছে। ফলে এসব রক্ষার প্রয়োজনীয়তা আছে।

দেশে বিশ্বাসযোগ্য গণতান্ত্রিকব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত সব স্তরে অবাধ, স্বাধীন ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনব্যবস্থা থাকা দরকার বলে মনে করেন রেহমান সোবহান। এতে যাঁরা নির্বাচিত হবেন, তাঁরা জানবেন, জনগণের সমর্থনের ভিত্তিতে তিনি শাসনভার পেয়েছেন। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্র হওয়ার স্বপ্ন দেখছে জাতি। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে জনগণের অকুণ্ঠ ভোটে জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত হতে হবে। তাঁর মত, ‘এখন নিজেদের প্রশ্ন করতে হবে, এই লক্ষ্যে আমরা কত দূর অগ্রসর হয়েছি বা সে জন্য আমাদের কী করতে হবে।’

অর্থনীতি সমিতির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের প্রথম দিনে গতকাল সংগঠনের সভাপতি অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাতকে অর্থনীতি শাস্ত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মুজিব স্বর্ণপদক দেওয়া হয়।

বক্তৃতায় আবুল বারকাত বলেন, বঙ্গবন্ধু একই সঙ্গে স্বাধীনতা ও মুক্তির সংগ্রামের কথা বলেছেন। কিন্তু দেশে স্বাধীনতা এলেও মুক্তি আসেনি। মুক্তির বিষয়টি অনেক জটিল। সে জন্যই বোধ হয় বঙ্গবন্ধু মুক্তির প্রসঙ্গ পরে উল্লেখ করেছেন। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর সমাজতান্ত্রিক চেতনা থেকে জাতি অনেক দূরে সরে এসেছে। এখন সবকিছু বাজার ও বেসরকারি খাত নির্ভর হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীদের প্রসঙ্গে অ্যাডাম স্মিথের একটি মন্তব্য উদ্ধৃত করেন তিনি। সেটি এ রকম: ব্যবসায়ীরা কদাচিৎ একত্র হন, আর কখনো যদি একত্র হন, তাহলে সম্ভাষণের পরে একটি জিনিস সঙ্গে নিয়ে বাড়ি যান, তা হলো দাম বাড়ানোর কূটকৌশল।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আরও আলোচনা করেন আবুল বারকাত। তবে তাঁর আক্ষেপ, দেশে এক সময় কৃষি সংস্কার নিয়ে অনেক আলোচনা হতো। রেহমান সোবহান তাঁর যুগে কৃষি সংস্কারের বিষয়ে সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠ ছিলেন। তিনি (আবুল বারকাত) এ নিয়ে কলম ধরেছেন, কিন্তু তারপর এ নিয়ে আর কেউ কথা বলে না।

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলন সারা দেশ থেকে আসা সমিতির হাজার খানেক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন