default-image

৯০ বছরের ঊর্ধ্বে জনগোষ্ঠীর জন্য একটি বিশেষ ভাতা কর্মসূচি চালু করার ঘোষণাটি এসেছিল ২০১৫ সালে। এর আওতায় তাঁদের মাসে তিন হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা। জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলপত্রে (এনএসএস) এ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সরকার। কিন্তু পাঁচ বছরেও কর্মসূচিটি চালু করতে পারেনি সরকার।

বিশেষ ভাতা কর্মসূচি বাস্তবায়নে ৯০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে। কিন্তু পাঁচ বছরেও সে তালিকা হয়নি। ২০১৫ সালের ১ জুন থেকে ১০ বছর মেয়াদি কৌশলপত্রটি কার্যকর হয়েছে। এর মেয়াদ শেষ হবে ২০২৫ সালে। হাতে সময় আছে আর মাত্র চার বছর। অথচ এ কৌশলপত্রে প্রবীণ ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ ভাতা কর্মসূচি চালুসহ যেসব প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তার অনেকগুলো এখনো শুরুই হয়নি। কাগজেই সীমাবদ্ধ সেসব প্রতিশ্রুতি।

এনএসএস তৈরি করেছিল পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। জানতে চাইলে কমিশনের সদস্য শামসুল আলম বলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে ৯০ বছরের বেশি বয়সের জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ভাতা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কারণ, ওই বয়সে গেলে পরিবারের সদস্যরা সেবা-যত্ন করতে চায় না। এমনকি পরিবারের সঙ্গেও রাখতে চায় না। তখন অনেকের ঠাঁই হয় প্রবীণ নিবাসে। এমন বাস্তবতায় তাঁদের জন্য বিশেষ ভাতার কথা বলা হয়েছিল। সংখ্যাটা খুব একটা বেশি নয়।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, দেশে বর্তমানে ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিদের জন্য মাসে ৭০০ টাকা করে বয়স্ক ভাতা চালু আছে।

সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় সারা দেশে এখন ১৪৫টি কর্মসূচি আছে। এসব কর্মসূচিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ধনীরাও ঢুকে পড়ছেন উপকারভোগীর তালিকায়। অথচ বাদ পড়ছেন অনেক দরিদ্র মানুষ। ভাতা পাওয়ার যোগ্য না হয়েও ৪৬ শতাংশ মানুষ ভাতা পাচ্ছেন বলে খোদ সরকারের প্রতিবেদনেই উঠে এসেছে। সে জন্য বাছাইপ্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে দেশে ধনী–দরিদ্রের একটি তালিকা করার ঘোষণা ছিল এনএসএস। এ দায়িত্ব পেয়েছিল বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিবিএস তালিকা চূড়ান্ত করতে পারেনি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৯৫ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ১৭ শতাংশ এবং মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ শতাংশ। তবে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীতে দেওয়া বরাদ্দের বড় অংশই চলে যায় সরকারি কর্মকর্তাদের পেনশন বাবদ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৯৫ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ১৭ শতাংশ এবং মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ শতাংশ।

পাঁচ বছরে এনএসএস প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি বিষয়ে ৪ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির (সিএমসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় এনএসএসের অনেক সূচকে পিছিয়ে থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন সবাই।

তথ্য বলছে, দেশে বয়স্ক ভাতা পাওয়া ব্যক্তির সংখ্যা ৩০ লাখ থেকে ৬৫ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ সংখ্যা ৪৯ লাখে উন্নীত হয়েছে। সিএমসির সভায় ৯০ বছরের ঊর্ধ্বে জনগোষ্ঠীর জন্য দ্রুত বিশেষ ভাতা চালু করতে সমাজকল্যাণসচিবকে অনুরোধ করেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব। একই সঙ্গে এ কর্মসূচির উপকারভোগীদের একটি তালিকা প্রণয়নের কথাও বলেন। এ ছাড়া ধনী–দরিদ্রের তালিকাটিও দ্রুত শেষ করতে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিবকে তাগিদ দেওয়া হয়।

এনএসএসে সরকারি চাকরিজীবীদের মতো বেসরকারি খাতেও পেনশন ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা চালু করতে পারেনি সরকার।

বিজ্ঞাপন
অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন