default-image

দেশের ভোজ্যতেল উৎপাদন ও বিপণনকারী কোম্পানিগুলো বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়েছে। নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ১৪৪ টাকা। এই দামে কোম্পানিগুলো পরিবেশকদের কাছ থেকে সরবরাহ আদেশ নেওয়া শুরু করেছে।

এদিকে দাম বাড়ার খবরে বাজারে থাকা আগের দামের সয়াবিন তেলের বোতল বাড়তি দামে বিক্রি শুরু করেছেন খুচরা বিক্রেতারা। এই বাড়তি দাম নেওয়া হচ্ছে এক লিটারের বোতলের ক্ষেত্রে।

রাজধানীর গুলশান ১ ও ২ নম্বরের সিটি করপোরেশনের কাঁচাবাজার, মহাখালী কাঁচাবাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক লিটার সয়াবিন তেলের বোতলের নির্ধারিত মূল্য ১৩৯ টাকা হলেও তা ১৪০ ও ১৪২ টাকায় বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা। কোনো কোনো দোকানি ক্রেতাদের কাছে প্রতি লিটার ১৪৪ টাকাও চাইছেন, যা নতুন নির্ধারিত দাম।

গুলশান ২ নম্বরের সিটি করপোরেশন কাঁচাবাজারের গুলশান বানিয়াতি স্টোরের মুদিদোকানি মো. রুবেল হোসেন একটি ব্র্যান্ডের এক লিটার সয়াবিন তেল ১৪৪ টাকায় বিক্রি করছিলেন। তিনি বলেন, কোম্পানির প্রতিনিধিরা নতুন দামে তেল বিক্রি শুরু করেছেন। এ জন্য তাঁরাও বেশি দামে বিক্রি করছেন। কিন্তু তাঁর দোকানে তেলের বোতলে লেখা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) ছিল ১৩৯ টাকা।

বিজ্ঞাপন

কোম্পানিগুলো যে নতুন দামে সরবরাহ আদেশ নেওয়া শুরু করেছে, তা জানা যায় পরিবেশকদের কাছ থেকে। তিন বাজারে তিন কোম্পানির পরিবেশক জানান, কোম্পানির প্রতিনিধিরা তাঁদের কাছ থেকে প্রতি লিটারে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১৪৪ টাকা ও পাঁচ লিটারে ৬৮৫ টাকা ধরে অর্ডার নেওয়া শুরু করেছেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সর্বশেষ গত ১৫ মার্চ এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১৩৯ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। এর পর থেকে ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত ওই দামেই বিক্রি করছিলেন। তবে ১৯ এপ্রিল কোম্পানিগুলোর সমিতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংস্থা বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনকে চিঠি দিয়ে নতুন দাম নির্ধারণের কথা জানায়। সব মিলিয়ে তেল কিনতে মানুষের ব্যয় আরেক দফা বাড়ছে।

স্বস্তির খবর, বাজারে চালের দাম আগের তুলনায় কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা কমেছে। প্রতি কেজি নাজিরশাইল ৬৬-৬৮ টাকা, মিনিকেট ৬৪-৬৫ টাকা, বিআর–২৮ চাল ৫০-৫২ এবং মোটা চাল ৪৬ থেকে ৪৮ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের ঢাকা রাইস এজেন্সির মালিক মো. শহীদুল্লাহ খান বলেন, এক সপ্তাহ ধরে বাজারে চালের দাম কমতির দিকে। বোরো মৌসুম শুরু হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে দাম আরও কমতে পারে।

এ ছাড়া মুরগির দামও ধীরে ধীরে কমছে। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ৫ টাকা কমে ১৪০ টাকা ও সোনালিকা মুরগি ২০ টাকা কমিয়ে প্রতি কেজি ২৬০ টাকা দরে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

সবজির দাম এখনো বেশি। গতকাল মহাখালী ও কারওয়ান বাজারে প্রতি কেজি বেগুন ৫০-৬০ টাকা ও শসা ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। এ ছাড়া প্রতি কেজি পটোল, ঢ্যাঁড়স, বরবটি ও করলা ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং ঝিঙে ও চিচিঙ্গা ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি করেন বিক্রেতারা।

মহাখালী ও কারওয়ান বাজারে সরু দানার মসুর ডাল ৯৫ থেকে ১০০ টাকা ও মোটা দানা ৬৫-৭০ টাকা এবং ছোলা প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়। চিনির দামও কমেছে। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬২ থেকে ৬৫ টাকায়।

বিজ্ঞাপন
অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন