default-image

বিশ্বব্যাংকের ব্যবসায় সহজ করার সূচকে আগামী বছরই বাংলাদেশের অবস্থান দুই অঙ্কের ঘরে, অর্থাৎ ১০০–এর আগে উঠে আসবে বলে মনে করে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতাধীন সংস্থাটি এর আগেও চলতি বছরের মধ্যেই এ সূচকে দুই অঙ্কের ঘরে উঠে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

বিডা বলেছে, ব্যবসায় সহজ করতে এত দিন যেসব সংস্কার কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর প্রতিফলন দেখা যাবে আগামী বছর। তবে বিশ্বব্যাংক যখন ব্যবসায় সহজ করার বিষয়ে জরিপ পরিচালনা করে, তখন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা সঠিক তথ্য দেন না বলেও অভিযোগ করেছে বিডা।

গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনে ব্যবসা সহজ করার সূচক নিয়ে আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব কথা বলেছে বিডা। বিডার নির্বাহী সদস্য মো. বিল্লাল হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সংস্থার নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ও নির্বাহী সদস্য মকবুল মোর্শেদ, বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবুল খায়ের আমিনুর রহমান, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য জাফর আলম প্রমুখ। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিডার পরিচালক জীবন কৃষ্ণ সাহা রয়।

মূল প্রবন্ধে জীবন কৃষ্ণ সাহা রয় বলেন, বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ ব্যবসা সহজ করার সূচকে ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬৮তম। যে দশটি সূচকের ওপর ভিত্তি করে সূচকটি তৈরি করা হয়, তার মধ্যে সাতটিতেই ব্যাপক সংস্কার আনা হয়েছে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎপ্রাপ্তি সূচকে ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৭৬তম। ব্যবসায়ীদের বিদ্যুৎ–সংযোগ দিতে বেশ কিছু সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে আগামী বছর বিদ্যুৎপ্রাপ্তি সূচকে বাংলাদেশ ২০তম অবস্থানে উঠে আসবে।

বিজ্ঞাপন
ব্যবসায় সহজ করার সূচকে বাংলাদেশের এখন যে অবস্থান, তাতে আশাবাদী হওয়ার কিছু নেই। তবে আমরা বেশ কিছু সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করেছি, যার প্রতিফলন দেখা যাবে আগামী বছর
সিরাজুল ইসলাম, নির্বাহী চেয়ারম্যান, বিডা

বিডা বলছে, ব্যবসায়ীদের ঋণপ্রাপ্তি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১১৯তম। সংস্কার কার্যক্রম নেওয়ার ফলে আগামী বছর এ সূচকে ১৫তম স্থানে উঠে আসবে বাংলাদেশ। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর স্বার্থরক্ষা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৭২তম। চলমান সংস্কার কার্যক্রমের ফলে এ সূচকে ২১তম হবে বাংলাদেশ। সীমান্ত বাণিজ্য সূচকে এখন অবস্থান ১৭৬তম। সংস্কার কার্যক্রমের সুবাদে এ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৬৪তম স্থানে উন্নীত হবে।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যবসায় সহজ করার সূচকে বাংলাদেশের এখন যে অবস্থান, তাতে আশাবাদী হওয়ার কিছু নেই। তবে আমরা বেশ কিছু সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। যার প্রতিফলন দেখা যাবে আগামী বছর।’ তিনি আরও বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বিকল্প নেই। তাঁরাই অর্থনীতির প্রাণ। তাই তাঁদের জন্য সহজে ঋণপ্রাপ্তির ব্যবস্থা করে দিতে হবে, প্রয়োজনে এ–সংক্রান্ত আইনও প্রণয়ন করা যেতে পারে।

বিডার নির্বাহী সদস্য বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আমরা ইজ অব ডুয়িং বিজনেস (ব্যবসায় সহজ করা) সূচকের বিভিন্ন সংস্কার নিয়ে কাজ করছি। অনেক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন তথা দ্রুত ও সহজ সেবার ব্যবস্থা করতে পেরেছি।’ সব মিলিয়ে ১০টি সূচকেই উন্নয়নের মাধ্যমে আগামী বছর দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছানো যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিশ্বব্যাংক ১০টি সূচকের ভিত্তিতে প্রতিবছর এ–সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে। সূচকগুলো হচ্ছে ব্যবসায় শুরু, নির্মাণ অনুমোদন, বিদ্যুৎপ্রাপ্তি, সম্পত্তি নিবন্ধন, ঋণপ্রাপ্তি, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর স্বার্থরক্ষা, কর পরিশোধ, সীমান্ত বাণিজ্য, চুক্তি কার্যকর ও দেউলিয়াত্ব মীমাংসা।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন