জাহাজটি আমদানির জন্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে দিতে হয়েছে ২ কোটি ৪৫ লাখ ৬৪ হাজার মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ২০৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। শুল্ককর দিতে হয়েছে ১৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। জাহাজটি কেটেকুটে যা পাওয়া যাবে তা বিক্রি করে ওঠানো হবে পুরো খরচ। খরচের চেয়ে বাড়তি যা পাওয়া যাবে, তা উঠবে লাভের খাতায়।

তেল পরিবহনকারী জাহাজটির নাম ‘ইএম ভাইটালিটি’। জাহাজটি লম্বায় ৩৪০ মিটার, ঠিক ৯৭ তলা উঁচু ভবনের মতো লম্বা। আয়তনে ১৯ হাজার বর্গমিটার। কোপা আমেরিকায় যে মাঠে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ফাইনাল খেলা হবে, সেটির মতো তিনটি মাঠের আয়তনের সমান।

পুরোনো জাহাজ বিক্রি হয় জাহাজে থাকা মোট লোহার ওজন ধরে। দুই বছর আগে মোস্তফা হাকিম গ্রুপ একই ধরনের জাহাজ কিনেছিল ১৮০ কোটি টাকায়। তখন লোহার দাম ছিল কম। এখন বিশ্ববাজারে লোহার দাম বেড়ে যাওয়ায় ৪৩ কোটি টাকা বেশি দামে কিনতে হয়েছে একই রকম জাহাজ। তাতেই হলো রেকর্ড।

আমদানির পর দুই সপ্তাহ আগে জাহাজটি ভাঙার কাজ শুরু করেছে এইচ এম শিপইয়ার্ডের ৫০০ কর্মী। এ ধরনের জাহাজ বানাতে সময় লাগে কমবেশি ৯ থেকে ১৫ মাস। নির্মাণের মতো এই বিশাল জাহাজ এক বছরেই ভাঙার কাজ শেষ করতে চায় তারা। জাহাজটি কেটে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যাবে লোহা, তা–ও ৪৮ হাজার ৮৭ টন।

জাহাজটি দীর্ঘদিন ব্যবহার হয়েছে সৌদি আরবের জ্বালানি তেল পরিবহন কোম্পানি ‘বাহরি’র তেল পরিবহনে।

মোস্তফা হাকিম গ্রুপের পরিচালক মো. সারোয়ার আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘জাহাজ ভাঙার গলনশীল লোহা ইস্পাত কারখানায় কাঁচামাল হিসেবে খুবই ভালো। কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড়ে এ বছর চালু হওয়া এইচ এম স্টিল এবং সীতাকুণ্ডের গোল্ডেন ইস্পাত—আমাদের এ দুটি কারখানায় এই জাহাজের গলনশীল লোহা ব্যবহার হবে। বাকি পণ্য স্থানীয় বাজারে বিক্রির পাশাপাশি তামা, পিতল, কপারের মতো বেশ কিছু মূল্যবান পণ্য রপ্তানি করা হবে।’

জাহাজটি ১৯৯৬ সালের অক্টোবরে জাপানের একটি কারখানায় তৈরি হয়। এ ধরনের নতুন জাহাজের দাম এখন প্রায় ৯৫ মিলিয়ন ডলার বা ৮০০ কোটি টাকার কমবেশি। আবার এ ধরনের জাহাজের প্রতিদিনের ভাড়া ৩৬ হাজার ডলার। এ রকম ৮১০টি জাহাজ বর্তমানে বিশ্বে পণ্য পরিবহনের সেবায় নিয়োজিত আছে।

পুরোনো জাহাজটির পেছনে আছে প্রায় ৭৩ টন ওজনের প্রপেলার বা পাখা। এই প্রপেলার চালানোর জন্য আছে ৩৩ হাজার ৬০০ অশ্বশক্তির (বিএইচপি) ইঞ্জিন। ইঞ্জিনটি প্রতি মিনিটে সর্বোচ্চ ৭০ বার ঘোরাতে পারে এই প্রপেলার। পুরোনো এই প্রপেলারের এখনো বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। ইঞ্জিন ব্যবহার করা না গেলেও কেটেকুটে বিক্রি করা যাবে বেশ ভালো দামে। আবার ইঞ্জিন চালানোর জন্য আছে পাঁচটি জেনারেটর। সেগুলো হয়তো জেনারেটর হিসেবেই বিক্রি করা যাবে। এ রকম মূল্যবান নানা পণ্য আছে জাহাজটিতে।

তৈরির কয়েক বছর পর সৌদি আরবের জ্বালানি তেল পরিবহন কোম্পানি ‘বাহরি’র হাতে ছিল জাহাজটি। এ ধরনের জাহাজ ‘ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার’ বা জ্বালানি পরিবহনের খুব বড় আকারের জাহাজ হিসেবে পরিচিত। সাগর-মহাসাগরে জ্বালানি তেল নিয়ে ছুটে চলত এটি। ধারণক্ষমতার পুরোপুরি অর্থাৎ তিন লাখ টন জ্বালানি তেল ভরার পর পানির নিচের অংশে থাকত জাহাজটির সাড়ে ২২ মিটার। সেসব এখন পুরোনো তথ্য।