চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাজ্যে মজুরি বেড়েছে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ, ২০০০ সালের পর যা সর্বোচ্চ। 

মূলত জ্বালানি ও খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে যুক্তরাজ্যের মানুষেরা বিপাকে পড়েছেন। অনেকের পাতে খাবার কমেছে। অন্যদিকে জ্বালানির বিলে ভর্তুকি দিতে যুক্তরাজ্য সরকার জনগণের জন্য বিপুল প্রণোদনা দিচ্ছে। দেশটির নাগরিকেরা ৪০০ পাউন্ড করে জ্বালানি ভর্তুকি পাবেন। ধারণা করা হচ্ছে, এতে দেশটির মানুষ মূল্যস্ফীতির ধাক্কা অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে পারবেন। 

এই বাস্তবতায় যুক্তরাজ্যের অন্যতম বৃহৎ জনবল নিয়োগদানকারী প্রতিষ্ঠান ম্যানপাওয়ার গ্রুপ বিবিসিকে বলেছে, মজুরি ও মূল্যস্ফীতির মধ্যকার এই ব্যবধানের কারণে দেশটির পরিবারগুলো আরও চাপে পড়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি উত্তরণের আশু লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করে প্রতিষ্ঠানটি। 

এদিকে গত সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাজ্যে বেকারত্বের হার দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৬, যা গত আগস্ট মাসে ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। দেশটির অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকস এই তথ্য জানিয়েছে। বেকারত্বের এই হার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে কম হলেও দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক; অর্থাৎ ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সতর্কবার্তা, যুক্তরাজ্য যে ধরনের কঠিন মন্দার মুখে পড়তে যাচ্ছে, তাতে ২০২৫ সালে বেকারত্বের হার দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হচ্ছে না, ব্রেক্সিটের প্রভাব আরও কত দিন অনুভূত হয়, তা-ও মানুষ জানে না। ফলে আপাতত মানুষের জন্য সুসংবাদ নেই বলেই ধারণা করছেন বিশ্লেষকেরা। 

এদিকে যুক্তরাজ্যের নতুন অর্থমন্ত্রী জেরেমি হান্ট আগামী বৃহস্পতিবার নতুন অর্থনৈতিক পরিকল্পনা পেশ করবেন। এটি লিজ ট্রান্সের জমানার মিনি বাজেটের মতো। ধারণা করা হচ্ছে, সেদিন তিনি ব্যয় হ্রাসসহ কর বৃদ্ধির প্রস্তাব দেবেন। 

একই সঙ্গে দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেরিমি হান্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ঋষি সুনাক সেদিন জাতীয় ন্যূনতম মজুরি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির ঘোষণা দেবেন। এ ছাড়া দেশটির দরিদ্রতম পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার ব্যয়ের সীমা নির্ধারণের পরিকল্পনাও তাদের আছে। 

মূল্যস্ফীতির খড়্গ

চলতি বছর বিশ্বের সব দেশেই মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পায়। তার জেরে বিশ্বের সবখানে পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা করোনার পর আবারও ব্যাহত হয়। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় নীতি সুদ হার বাড়াতে থাকে। এর জেরে সারা বিশ্বের বিনিয়োগকারীরা মার্কিন বন্ডে বিনিয়োগ করতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। দ্য ইউএস ডলার ইনডেক্সের তথ্যানুসারে, চলতি বছর ডলারের বিনিময় মূল্য ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এতে উন্নয়নশীল দেশগুলোসহ যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত দেশের মুদ্রার দরপতন হয়। স্থানীয় মুদ্রার দরপতনের জেরে বিশ্ব ব্যাপী মূল্যস্ফীতির সূচক হু হু করে বেড়ে যায়। 

এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন পর ইউরোপেও নীতি সুদ হার বৃদ্ধি করা হয়। সেপ্টেম্বর মাসে ৭৫ বেসিস পয়েন্ট সুদ হার বৃদ্ধি করে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ইসিবির প্রধান ক্রিস্টিন ল্যাগার্দ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আগামী দিনেও সুদ বৃদ্ধির ধারা বহাল রাখা হবে। ফলে ধাক্কা খেতে পারে অর্থনীতি। যে কথা এর আগে বলেছিল আমেরিকার শীর্ষ ব্যাঙ্ক ফেডারেল রিজ়ার্ভ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর জেরে ইউরোপে মন্দার আশঙ্কাও থাকছে।