ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ২০১৪ সাল থেকে এই বাজার জৌলুশ হারাতে শুরু করে। কারণ, ঢাকার অনেক আড়তদার এবং ট্যানারি মালিক নানা অজুহাতে এখানকার ব্যবসায়ীদের পাওনা টাকা আটকে রেখেছেন। এতে অনেকেরই লাখ লাখ টাকা আটকা পড়েছে। সে টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। মো. সুলেমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রায় ৫০ বছর ধরে পারিবারিকভাবে চামড়ার ব্যবসা করছি। বাপ-দাদার কাছ থেকে শুনেছি, আগে ব্যবসায় ঝামেলা ছিল না। এখন কিন্তু আড়তদারেরা টাকা দিতে চান না। আড়তদারের কাছে আমার ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা বকেয়া আছে।’

মো. সুলেমান জানান, তিনি দুই হাজার গরুর চামড়া কিনেছেন। আকার অনুযায়ী একেকটি চামড়ার দাম পড়েছে ২০০ থেকে ৭০০ টাকা। এই চামড়া সংরক্ষণে ২০০ বস্তা লবণ কিনেছেন। প্রতি বস্তার (৫০ কেজি) দাম ৮০০ টাকা।

বালিকান্দি গ্রামের আরেক ব্যবসায়ী আবদুল করিম বলেন, গত কয়েক বছরে লস দিতে দিতে অনেকেই ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা ধারকর্জ করে চামড়া কেনেন। এরপরে লস দিয়ে বেচতে বাধ্য হন। এর ওপর ঢাকার আড়তদারেরা বকেয়া টাকা দেননি।

বালিকান্দি চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. শওকত গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে জানান, ২০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে তিনি এবার আড়াই হাজার গরুর চামড়া কিনেছেন। কিন্তু লবণ–সংকট ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে তাঁর প্রায় ৫০০ চামড়া নষ্ট হয়েছে। তিনি জানান, বালিকান্দি বাজারের ব্যবসায়ীরা গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১২ হাজার চামড়া সংরক্ষণ করেছেন।

এই সংখ্যা ১৫–১৬ হাজারে গিয়ে ঠেকবে। পাঁচ-সাত দিন পর থেকে ঢাকার ব্যবসায়ীদের কাছে এসব চামড়া বিক্রি শুরু হবে। ঢাকা ও নাটোরের আড়তদারের কাছে তাঁর ৬০ লাখ টাকা বকেয়া পড়ে আছে বলে জানান তিনি।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন