গভর্নর নিয়োগে সরকার দুর্বল পদক্ষেপ নিয়েছে: খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম
বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেছেন, বর্তমান সরকার গভর্নর নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি দুর্বল পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সঙ্গে প্রক্রিয়াটি অস্বচ্ছ ছিল। সরকার রাজনৈতিক বিবেচনায় গভর্নর নিয়োগ দিতে চাইলে এর চেয়ে আরও ভালো নিয়োগ দিতে পারত।
আজ শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। ‘নতুন সরকারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে নীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত: ১৮০ দিন ও তারপর’ বিষয়ে এই মিডিয়া ব্রিফিং আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, নবনিযুক্ত গভর্নরের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। সরকার এ ধরনের সমালোচনাগুলো এড়িয়ে আরও ভালো নিয়োগ দিতেই পারত এবং সে ধরনের লোক সরকারের হাতে ছিল বলে আমার কাছে মনে হয়।
খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বাংলাদেশে গভর্নর নিয়োগ করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম বা বাছাইয়ের প্রক্রিয়া নেই। ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ভারতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ায় আলাদা করে একটি কমিটি রয়েছে। কমিটিতে দেশটির অর্থসচিব, অন্য সাবেক গভর্নর ও ব্যক্তিরা থাকেন। তাঁরা সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা করেন এবং পরে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তা চূড়ান্ত করেন। সেখানে আবেদনের ক্ষেত্রে শর্তের মধ্যে রয়েছে, গভর্নরকে অন্তত ২০ বছর এ খাতে অভিজ্ঞতা ও প্রতিষ্ঠান চালানোর অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তিনি প্রাজ্ঞ হবেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাঁর মাস্টার্স বা পিএইচডি থাকতে পারে। ভারতে প্রতিষ্ঠান চালানোর অভিজ্ঞতার খুব গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশেও ভবিষ্যতে গভর্নর নিয়োগের ক্ষেত্রে এ ধরনের আইনবদ্ধ প্রক্রিয়া অনুসরণের পরামর্শ দেন গোলাম মোয়াজ্জেম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের প্রসঙ্গ টেনে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে অর্থনৈতিক বিষয়গুলো খুব বেশি অগ্রাধিকার পায়নি। আর্থিক খাতের যে সংস্কারগুলো হয়েছে, তা অনেকটাই ব্যক্তিকেন্দ্রিক ছিল। এসব সংস্কারের বিরুদ্ধে একটা স্বার্থগোষ্ঠী সব সময় কাজ করেছে। তা সত্ত্বেও সাবেক গভর্নর (আহসান এইচ মনসুর) নিজস্ব দক্ষতায় কাজ করেছেন এবং বেশ কিছু ক্ষেত্রে সফলও হয়েছেন। আমি মনে করি, সংস্কার কাজগুলো অব্যাহত রাখতে তাঁর মতো একজন ব্যক্তিকে সরকার রেখে দিতে পারতেন। তাতে আর্থিক খাতের জন্য ভালো হতো।’
গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘আমি প্রত্যাশা করব, প্রধানমন্ত্রী যেন সাবেক গভর্নরকে তাঁর দপ্তরে আমন্ত্রণ জানান এবং তাঁকে যেন আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান।’