কর্মসংস্থান ও প্রবাসী আয় বাড়াতে ৬০ হাজার গাড়িচালককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে
নতুন ও পুরোনো মিলিয়ে মোট ৬০ হাজার গাড়িচালককে প্রশিক্ষণ দেবে সরকার। কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রেমিট্যান্স, তথা প্রবাসী আয়ের প্রবাহ জোরদারের উদ্দেশ্যে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ দেবে সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)।
গাড়িচালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ২৩১ কোটি টাকা ব্যয়ের ভৌত সেবা কেনার একটি প্রস্তাব গতকাল মঙ্গলবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে অনুমোদিত হয়েছে। সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
জানা গেছে, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন ‘বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা’ শীর্ষক একটি প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদিত হয় ২০২৩ সালে। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয় ২০২৩ সালের ১ মে থেকে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। প্রকল্পটির মোট ব্যয়ের মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা দেওয়া এবং বিশ্বব্যাংক থেকে ৩ হাজার ৭৬০ কোটি টাকার ঋণ নেওয়ার কথা।
এ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অংশের একটি প্যাকেজ। তার আওতায় গতকাল ক্রয় কমিটিতে উপস্থাপিত রয়েছে ‘নন-কনসালট্যান্সি সার্ভিস ফর ডেলিভারি অব কমার্শিয়াল ড্রাইভার ট্রেনিং’ শীর্ষক ভৌত সেবা কেনার কাজ। প্রকল্পের অন্যান্য কাজে ধীরগতি রয়েছে বলে জানা গেছে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রশিক্ষণের আওতায় মোট ৬০ হাজার চালকের মধ্যে ৪০ হাজার হবেন একেবারেই নতুন। আর বর্তমানে চালক, এমন ২০ হাজার জনকে দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এ ব্যাপারে সহায়তা করবে। নির্ধারিত নিয়ম ও মানদণ্ড অনুসরণ করে প্রশিক্ষণ, সনদ ও লাইসেন্স দেওয়া হবে।
বেকারত্বের চাপ কমার পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য উচ্চ আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে এ প্রকল্পের মাধ্যমে। চালকেরা দক্ষ হবেন এবং ভারী যন্ত্রপাতি চালানোর চাহিদাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে তাঁদের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়বে
প্রকল্পটিকে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান কৌশলের অংশ মন্তব্য করে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এর সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য চালকদের ভারী, যেমন ক্রেন, এক্সক্যাভেটর ইত্যাদি চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আর বর্তমান চালকদের বিদেশে কোনো চাহিদা নেই। প্রশিক্ষণ নিলে বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির জন্য যোগ্য হয়ে উঠবেন তাঁরা। দেশের ভেতরেও পেশাদার চালকদের মান ও সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে সহায়ক হবে এ প্রকল্প।
অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, বেকারত্বের চাপ কমার পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য উচ্চ আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে এ প্রকল্পের মাধ্যমে। চালকেরা দক্ষ হবেন এবং ভারী যন্ত্রপাতি চালানোর চাহিদাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে তাঁদের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়বে।
সূত্রগুলো জানায়, প্রকল্পটির আওতায় ৪০ হাজার নতুন পেশাদার দক্ষ চালক তৈরির জন্য ৪ মাসে ৮০ দিন এবং বর্তমান পেশাদার ২০ হাজার চালককে ৫ দিন মেয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ৪০ হাজার চালকের চোখ পরীক্ষা করা হবে এবং ২০ হাজার চালককে দেওয়া হবে চশমা।
৪০ হাজার জনকে প্রাথমিক ও বর্তমানে চালক, এমন ২০ হাজার জনকে দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা জানান, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো বিষয়ে বেতন কমিশনের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন কাজ চলছে। বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে কেউ লিখিতভাবে, কেউ সরাসরি সাক্ষাৎ করে কমিশনের কাছে মতামত ও প্রস্তাব দিয়েছেন। সব দিক বিবেচনা করেই সুপারিশ তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, কমিশনের ২১ সদস্য এ ব্যাপারে বিশদ পর্যালোচনা করছেন। শিগগির তাঁরা সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেছেন যে নির্বাচনের আগে বেতনকাঠামো সম্ভব নয়, এ ব্যাপারে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘বেতনকাঠামোর বিষয়ে গভর্নরের কিছু নেই। গভর্নর ব্যাংক-সংক্রান্ত বিষয়ে মতামত দিতে পারেন। এটা সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়।’
কেনা হচ্ছে সয়াবিন তেল ও সার
এদিকে গতকাল নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির জন্য ১৮০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এক কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল ক্রয় এবং সৌদি আরব থেকে ১৯১ কোটি ৪১ লাখ টাকায় ৪০ হাজার টন ইউরিয়া সার কেনার দুটি প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে।
পরিশোধিত সয়াবিন তেল সরবরাহের কাজ পেয়েছে ঢাকার সোনারগাঁও সিডস ক্রাশিং মিলস। প্রতি লিটার তেলের দাম পড়ছে ১৮০ টাকা ৮৫ পয়সা। আর সার সরবরাহের কাজ পেয়েছে সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি। প্রতি টন সারের দাম পড়ছে ৩৯০ মার্কিন ডলার।
অন্যদিকে খুলনায় বাংলাদেশ রেলওয়ের অব্যবহৃত ১৫ দশমিক ৫২ একর জমির ওপর ২৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল তৈরির জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে ‘নিউ মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল অব ২৫০ বেডস অন দ্য আনইউজড ল্যান্ড ইন খুলনা’ শীর্ষক প্রকল্প অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়েছিল ২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট। গতকাল অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে পিপিপি তালিকা থেকে প্রকল্পটিকে বাদ দেওয়া হয়। এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮০০ কোটি টাকা।