এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে খুচরা ব্যবসা থেকে বছরে মাত্র ৫ হাজার কোটি টাকার মতো ভ্যাট আদায় হয়। নতুন করে ৩ লাখ ভ্যাটের মেশিন বসানো সম্ভব হলে বছরে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ভ্যাট আদায় করা সম্ভব হবে। তাতে বাড়তি ভ্যাট মিলবে ২০ হাজার কোটি টাকা।

এনবিআরের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন এনবিআরের সদস্য (মূসক আইটি ও বাস্তবায়ন) মইনুল খান এবং জেনেক্স ইনফোসিস লিমিটেডের চেয়ারম্যান চৌধুরী ফজলে ইমাম।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ইএফডি মেশিন বসানোর কার্যক্রমে ঢাকা ও চট্টগ্রামকে তিনটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম বছর প্রতি অঞ্চলে কমপক্ষে ২০ হাজার মেশিন সরবরাহ ও স্থাপন করবে জেনেক্স ইনফোসিস। চুক্তির পাঁচ বছরের মধ্যে প্রতি অঞ্চলে ১ লাখ করে মোট ৩ লাখ মেশিন বসানো হবে। 

চুক্তি অনুযায়ী, জেনেক্স ইনফোসিস ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানে ইএফডি মেশিন সরবরাহ, স্থাপন ও সংরক্ষণের কাজ করবে। ইএফডি মেশিনের মাধ্যমে যত টাকা রাজস্ব আদায় হবে, এর একটি অংশ পাবে জেনেক্স ইনফোসিস। এটিকে বলা হচ্ছে ‘সার্ভিস চার্জ’। সার্ভিস চার্জ কত পাবে, তা-ও ঠিক করা হয়েছে। এই সার্ভিস চার্জের পরিমাণ ঢাকার জন্য দশমিক ৫২ টাকা এবং চট্টগ্রামের জন্য দশমিক ৫৩ টাকা। এর মানে, কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে এক মাসে এক লাখ টাকা ভ্যাট আদায় হলে ৫২০ টাকা সার্ভিস চার্জ পাবে জেনেক্স ইনফোসিস। তবে জেনেক্স ভ্যাট আদায়ের কোনো কাজ করবে না। প্রতিষ্ঠানটি শুধু ভ্যাটের মেশিন বসানোর পর সেটির কারিগরি দিক দেখবে। 

এ বিষয়ে মইনুল খান বলেন, ব্যবসায়ীরা বিনা পয়সায় ইএফডি মেশিন চেয়েছিলেন। এখন বিনা পয়সায় ইএফডি মেশিন দেওয়া হবে। আবার যখন যে এলাকা বা বিপণিবিতানে ভ্যাটের মেশিন বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে, তখন সব দোকানেই বসানো হবে। কেউ বাদ যাবে না। 

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা সরকারের পক্ষে ভ্যাট আদায় করে দিই। কিন্তু এত বড় একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি, যা দুঃখজনক। জোর করে ভ্যাটের মেশিন বসানো যায় না। জোর করে রাজস্ব আদায় করা যায় না।’