রাজস্ব আদায়ে ন্যায্যতা নিশ্চিতের নির্দেশ এনবিআর চেয়ারম্যানের

খুলনার বিভাগীয় ও জেলা সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাজেটবিষয়ক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। আজ বৃহস্পতিবার খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়েছবি: বাসস

রাজস্ব আদায়ে কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। তিনি বলেন, রাজস্ব আদায়ে ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত খুলনা বিভাগীয় ও জেলার সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রাক্‌–বাজেট আলোচনা সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান এ কথা বলেন। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এ সভার আয়োজন করা হয়।

এনবিআর চেয়ারম্যান কর–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্দেশে বলেন, যোগসাজশের মাধ্যমে ভুয়া লাইসেন্স নিয়ে অনেকেই ব্যবসা করছেন এবং রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছেন। এ ধরনের অনিয়ম কোনো অবস্থাতেই সহ্য করা হবে না। অপ্রয়োজনীয় জটিলতা সৃষ্টি না করে পুরোনো সমস্যাগুলো সমাধানের আহ্বান জানান তিনি। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, দেশে করদাতার সংখ্যা বাড়ছে, তবে এই সংখ্যা আরও বাড়ানো দরকার। রাজস্ব আদায় বাড়াতে নতুন নতুন খাত খুঁজে বের করা হচ্ছে। এ সময় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর ঋণের বোঝা না চাপিয়ে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সচেতন হয়ে অপচয় ও অপব্যয় রোধ করে শুধু প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয়ের পরামর্শ দেন তিনি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ নাজমুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন এনবিআর সদস্য মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী, মো. আজিজুর রহমান, মো. মুবিনুল কবীর, সদস্য আহসান হাবিব, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হক প্রমুখ।

এর আগে খুলনায় নবনির্মিত আধুনিক কর ভবনের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান।

ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো টিআইএন সার্টিফিকেট করা নিয়ে একধরনের ভীতি কাজ করে। মানুষ মনে করে, করদাতা হলে তাঁরা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে হয়রানির শিকার হবে। কর্মকর্তাদের অতি উৎসাহী আচরণ ও অসততার কারণেই নতুন করদাতা তৈরি হচ্ছে না, যা দেশের অর্থনীতির জন্য শুভ নয়।

কর প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হুইপ। তিনি বলেন, প্রায়ই দেখা যায় বড় ব্যবসায়ীরা কর ফাঁকি দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছেন, অথচ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ওপর কর কর্মকর্তারা অন্যায্য চাপ সৃষ্টি করেন। এই বৈষম্য দূর করতে হবে।

খুলনার আঞ্চলিক অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রকিবুল ইসলাম বলেন, শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত হলেও খুলনার শিল্প এখন ধ্বংসের পথে। বিশেষ করে মৎস্যশিল্প আজ হুমকির মুখে। অবহেলিত এই অঞ্চলে কুটিরশিল্প থেকে শুরু করে বৃহৎ শিল্পকারখানা আবার গড়ে তোলার মাধ্যমে অর্থনীতিকে সচল করা হবে।