আমরা তো ডলার প্রিন্ট করি না। ডলার আমাদের অর্জন করতে হয়। বিদেশের শ্রমিকেরা এবং যাঁরা ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন, তাঁরাই ডলার পাঠিয়ে সাহায্য করছেন।
আ হ ম মুস্তফা কামাল, অর্থমন্ত্রী

অর্থের প্রয়োজনে সব জায়গায় যাওয়ার কথা বলে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংকে যাব, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থায় (জাইকা) যাব। তবে আমরা সব সময় চেষ্টা করি কম সুদে ও সহজ শর্তে ঋণ নিতে। এবার চিঠি দেওয়া হয়েছে আইএমএফকে।

অর্থমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন ছিল, গত সপ্তাহে তিনি বলেছিলেন বিদেশি ঋণের প্রয়োজন নেই, অথচ গণমাধ্যমে এসেছে আইএমএফ থেকে ঋণ চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আইএমএফের একটি দল এসেছিল। প্রতিবছরই আসে। দলটি ছিল তখনো। সে সময় যদি বলি আমাদের অর্থের দরকার, তখন তারা অর্থ দিলেও সুদহার বাড়িয়ে দিতে পারে। গ্রাহক (বায়ার) হিসেবে আমরা খুব ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করি। আমরা ভাব দেখাই আমাদের অর্থের দরকার নেই। এটাই হলো মূল কথা। আমরা চেয়েছি তারা আমাদের সক্ষমতা দেখুক।’

আইএমএফকে দেওয়া চিঠিতে ঋণের পরিমাণ ৪৫০ কোটি ডলার উল্লেখ করা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পরিমাণ উল্লেখ করিনি। এটা মনে হয় ভুল–বোঝাবুঝি। আর ঋণের বিষয়টি যাতে কোনোভাবেই আমাদের বিপক্ষে না যায়। ঋণ নিলে আমার দায়িত্ব হচ্ছে আপনাদের ব্যাখ্যা দেওয়া। আমি সব সময় ব্যাখ্যা দিতে রাজি।’

সুদের হার নিয়ে অর্থমন্ত্রী অনড়

ব্যাংক খাতে সুদের হার নিয়ে অনড় অবস্থানেই আছেন অর্থমন্ত্রী। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমানত ও ঋণের সুদের হার ৬ ও ৯ শতাংশ করার কারণেই ব্যাংক খাত স্থিতিশীল অবস্থায় আছে। সরকারি ব্যাংকগুলোকে দায়িত্ব দিয়েছি নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য। পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে যেটা লালে ছিল, সেটা সবুজ হয়েছে।’ ‘আপনারা ভালোটা দেখে যদি না বলেন, তাহলে তো সমস্যা।’ সাংবাদিকদের উদ্দেশে এমন মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমানত ও ঋণের সুদের হার ৬ ও ৯ শতাংশ হওয়ার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি আজকের অবস্থানে আছে। আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো। আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক বরাবরই বলে যাচ্ছে, বাংলাদেশ ভালোভাবে এগোচ্ছে।’ সুদের হার উঠিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক খাতে যদি ৬ ও ৯ শতাংশ সুদ না হতো, তাহলে কোভিড পরিস্থিতিতে ছোট, বড়, মাঝারি কোনো প্রতিষ্ঠানকে খুঁজেও পাওয়া যেত না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তো ডলার প্রিন্ট করি না। ডলার আমাদের অর্জন করতে হয়। বিদেশের শ্রমিকেরা এবং যাঁরা ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন, তাঁরাই ডলার পাঠিয়ে সাহায্য করছেন।’

১ লাখ ৩০ হাজার টন সার আসবে

১ লাখ ৩০ হাজার টন এমওপি ও ইউরিয়া সার কেনার দুটি প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে ক্রয় কমিটি। এতে ব্যয় হবে ১ হাজার ১৯৯ কোটি টাকা। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল বারিক এ তথ্য জানান। ছয়টি প্রস্তাব উপস্থাপিত হয় বৈঠকে। এগুলোর মধ্যে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দুটি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একটি, শিল্প মন্ত্রণালয়ের একটি এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একটি।

আব্দুল বারিক জানান, এক লাখ টন এমওপি সার আনা হবে বেলগ্রেডের লিভিং স্টোন রিসোর্স ডিওও নামক প্রতিষ্ঠান থেকে। আর কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে প্রথম লটে সংগ্রহ করা হবে ৩০ হাজার টন গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার। এ ছাড়া খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৫০ হাজার টন গম আমদানি করা হবে সিঙ্গাপুরের ইন্ট্রা বিজনেস প্রাইভেট লিমিটেড থেকে। এতে ব্যয় হবে ২২৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন