যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি দেখে হতভম্ব, স্তম্ভিত: সিপিডির গবেষণা পরিচালক
অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তিটি চরমভাবে বৈষম্যমূলক বলে উল্লেখ করেন বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, ‘চুক্তির শর্ত দেখে আমরা হতভম্ব, স্তম্ভিত। সরকারের উচিত এই চুক্তি থেকে সরে আসা।’
আজ শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। ‘নতুন সরকারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে নীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত: ১৮০ দিন ও তারপর’ বিষয়ে এই মিডিয়া ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যখন শুল্কসংক্রান্ত বিষয়ে আলাপ–আলোচনা শুরু হয়েছিল, তখন সাধারণ মানুষকে ধারণা দেওয়া হয়েছে যে শুধু শুল্ক নিয়ে আলোচনা চলছে। পাল্টা শুল্কের হার কীভাবে ৩৫ থেকে ২০ শতাংশে কমিয়ে আনতে পারবে সেটি। তার জন্য কিছু কেনাকাটার (প্রকিউরমেন্ট) চুক্তি করলেই নাকি হয়ে যাবে।
গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত যে চুক্তি হয়েছে, তা দেখে আমরা হতভম্ব, আমরা স্তম্ভিত। এ ধরনের একটি চুক্তি কীভাবে একটি অনির্বাচিত সরকার করে যেতে পারল বা এই দায় কীভাবে একটি নির্বাচিত সরকারের কাঁধে দিতে পারল, তা বোধগম্য নয়। কোনো একটি বিষয় যদি অন্তর্বর্তী সরকারকে নিন্দা জানানোর থাকে, তাহলে আমি এই একটি চুক্তির জন্য নিন্দা জানাতে চাই।’
এ সময় চুক্তির বেশ কয়েকটি বৈষম্যমূলক ধারার উল্লেখ করেন খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যদি তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে চায়, তবে সেটি যদি মার্কিন মানদণ্ডের সঙ্গে সমান না হয়, তাহলে বাংলাদেশ সেই চুক্তি করতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে দেশীয় সেবা প্রদানকারীদের সঙ্গে সমান সুযোগ দিতে হবে। বাংলাদেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা মার্কিন সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সমান হতে হবে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র যদি তার সীমান্তে কোনো দেশের পণ্যকে ক্ষতিকর মনে করে, তবে বাংলাদেশকেও সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে।
গোলাম মোয়াজ্জেম আরও বলেন, বাংলাদেশ যদি তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গে ডিজিটাল বাণিজ্যচুক্তি করতে চায়, তবে সেটি যদি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তাহলে সেটিও এখানে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যদি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কোম্পানি বা ব্যক্তি বাংলাদেশে কাজ করে, তবে তার জন্য কোনো বাড়তি শর্ত আরোপ করা যাবে না।
খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘আমাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও নীতি সিদ্ধান্তের স্বাধীনতার জায়গায় এই চুক্তি একটা বড় বাধা মনে হয়েছে। এটি আমাদের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে মসৃণ উত্তরণকে ব্যাহত করবে। তবে এ চুক্তি থেকে আমাদের সরে আসার সুযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে এ–সংক্রান্ত নির্দেশনা এসেছে। এ আলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলাপ–আলোচনা হতে পারে। নির্বাচিত সরকারের উচিত হবে, বিদ্যমান চুক্তি থেকে বের হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে আলোচনা করা, যেখানে উভয় দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ হবে।’