বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান চা–শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, চা–শ্রমিকেরা শিক্ষাব্যবস্থায় বেশ পিছিয়ে রয়েছেন। এ ক্ষেত্রে দ্রুত উন্নয়ন দরকার। তাঁদের কীভাবে সামাজিক সুরক্ষা খাতে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, সেদিকে জোর দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ চা–কন্যা নারী সংগঠনের প্রধান খায়রুন নাহার বলেন, ‘চা–শ্রমিকদের চেয়েও রোহিঙ্গারা অনেক ভালো আছে। ৭০ বছর ধরে জঙ্গল কেটে বসবাস করেও এখনো ভূমির ওপর কোনো অধিকার নেই চা–শ্রমিকদের। আমরা ৩০০ টাকা মজুরির জন্য আন্দোলনে নেমেছিলাম; কিন্তু সরকার নির্ধারণ করেছে মাত্র ১৭০ টাকা। এই টাকায় কীভাবে একটা পরিবার চলে?’

নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, চা-শিল্পে প্রায় পাঁচ লাখ শ্রমিক রয়েছেন। তাঁরা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। শিশুরা পুষ্টিকর খাবার পায় না। বিশুদ্ধ খাবার পানি ও স্যানিটেশনেও তাঁরা পিছিয়ে।

তিনি বলেন, মজুরি বাড়ানোর দাবি উঠলেই চা-বাগানের মালিকেরা বলেন, এত মজুরি দিতে পারব না। দেশের অভ্যন্তরে চায়ের ভোক্তা বাড়ছে। তাহলে কেন শ্রমিকেরা ন্যায্য মজুরি পাবেন না।

সংসদ সদস্য মো. আব্দুস শহীদ বলেন, চা–শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।

চা–শ্রমিকদেরও অধিকার আদায়ে উৎসাহের সঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। ইতিমধ্যে শ্রমিকদের দুর্দশার কথা সরকারের ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। আগামী নির্বাচনী ইশতেহারে চা–শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার হওয়া দরকার।