টার্মিনালে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিকাজ পরিদর্শনের সময় চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ২১ জুলাই পাথরবাহী একটি জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের মাধ্যমে এ টার্মিনালের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হবে। দেশীয় প্রতিষ্ঠানের হাতে নির্মিত প্রথম এ টার্মিনাল বন্দরের সক্ষমতা বাড়াবে।

স্বাধীনতার পর সমুদ্রগামী জাহাজ ভেড়ানোর দুটি কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছে। তিন দশক আগে নির্মিত চট্টগ্রাম বন্দরের চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনালের (সিসিটি) নির্মাণকাজ করেছে ইউরোপীয় একটি প্রতিষ্ঠান। আর সর্বশেষ ২০০৭ সালে এ বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল নির্মাণ করেছে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি।

পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের পূর্ত কাজের দায়িত্ব ছিল সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের। সেনাবাহিনী পূর্ত কাজের জন্য নিয়োগ দেয় দেশীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। জেটি নির্মাণের জন্য দেশীয় প্রতিষ্ঠান ই–ইঞ্জিনিয়ারিংকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এটি বন্দরের টার্মিনাল অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান। ইয়ার্ডসহ অন্যান্য কাজেও দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করা হয়েছে। টার্মিনাল নির্মাণের বিস্তারিত নকশা ও পরামর্শক ছিল বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ১ হাজার ২৩০ কোটি টাকা ব্যয়ের এ টার্মিনালের কাজের উদ্বোধন হয় ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে। ২০১৯ সালে এই কাজ শেষ করার কথা ছিল। তবে প্রকল্প এলাকায় সরকারি–বেসরকারি স্থাপনা স্থানান্তরসহ নানা জটিলতায় নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৯ সালে।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি–বেসরকারি অংশীদারি (পিপিপি) কর্তৃপক্ষ এই টার্মিনাল পরিচালনার জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠান নিয়োগে কাজ করছে। শুরুতে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান এই পদ্ধতিতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করে। তবে এখন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ডেনমার্কের একটি করে তিনটি প্রতিষ্ঠান এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে চায়। এ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় এখন অন্তবর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে বন্দরের তত্ত্বাবধানে টার্মিনালটির পরিচালন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

নতুন টার্মিনালের ৫৮৪ মিটার লম্বা জেটিতে একসঙ্গে ৩টি কনটেইনার জাহাজ ভেড়ানো যাবে। এ টার্মিনালের মাধ্যমে বছরে জাহাজ থেকে পাঁচ লাখ আমদানি–রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার ওঠানো–নামানো সম্ভব হবে। এ ছাড়া ২০৪ মিটার লম্বা ডলফিন জেটিতে তেল পরিবহনকারী একটি জাহাজ ভেড়ানো যাবে। তিন জেটির এই কনটেইনার টার্মিনাল পুরোদমে চালু হলে বন্দরে একসঙ্গে ১৪–১৫টি কনটেইনার জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব হবে।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন