এলএনজি আসবে, খনিতে বিনিয়োগও করবে যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাকোলাজ

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব ছাড়ার মাত্র কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি সই করেছে। চুক্তিতে বাংলাদেশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিভিন্ন পণ্য ক্রয় এবং তাদের নানা শর্ত মেনে চলার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে কৃষিপণ্যের পাশাপাশি জ্বালানি ক্রয়ের অঙ্গীকার রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের খনিজ সম্পদ উত্তোলনে বিনিয়োগ করবে দেশটি। এ ছাড়া বাংলাদেশকে শুল্ক, শ্রম আইন, ডিজিটাল নীতি, কৃষি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ ও জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংস্কার করতে হবে।

চুক্তিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বাংলাদেশের কোম্পানিগুলোকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি আমদানি বৃদ্ধির চেষ্টা করতে হবে। বেসরকারি পর্যায়েও এ ধরনের ক্রয়প্রক্রিয়া চলতে পারে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে আগামী ১৫ বছরে জ্বালানি আমদানির সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ১৫ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। ১৫ বছরে এ পরিমাণ জ্বালানি ক্রয় করতে হবে বাংলাদেশকে।

চুক্তিপত্রে কেবল পণ্যের শুল্ক নয়, বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক বাণিজ্য ও নিয়ন্ত্রণকাঠামো ঢেলে সাজানোর বাধ্যবাধকতাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। মূলত বাংলাদেশকে কী করতে হবে, তার বিবরণ দেওয়া হয়েছে এই চুক্তিপত্রে। অন্যদিকে এই বাণিজ্যচুক্তি করায় বাংলাদেশের পণ্যে ২০ শতাংশের পরিবর্তে এখন ১৯ শতাংশ পাল্টা শুল্ক বসাবে যুক্তরাষ্ট্র। এখানে কিছুটা ছাড় দেওয়া হলেও অন্য সব শুল্ক আগের মতোই বসবে।

চুক্তিতে দেখা যায়, বাংলাদেশের খনিতে বিনিয়োগ করবে যুক্তরাষ্ট্র। চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ তার ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি বিনিয়োগকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও জ্বালানি সম্পদ অনুসন্ধান, খনন, উত্তোলন, পরিশোধন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন, বিতরণ ও রপ্তানির অনুমতি দেবে। এ ছাড়া মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগ, পরিবহন ও অবকাঠামোগত পরিষেবা প্রদান করবে। আন্তর্জাতিক আইনের ন্যূনতম মান মেনে মার্কিন বিনিয়োগগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করবে বাংলাদেশ। অর্থাৎ, দেশীয় কোম্পানির মতোই তারা বিভিন্ন পরিষেবা পাবে।