প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, ‘প্রতিবার দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা সংকটকে সুযোগে রূপান্তর করেছি। আমরা প্রথমবার যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাই, তখন দেশে দুর্ভিক্ষাবস্থা ছিল। এবার দায়িত্ব নেওয়ার পর বৈশ্বিক যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানিসংকট শুরু হলো। এ সময় যেকোনো কেতাবি অর্থনীতিবিদ বলবেন যে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে, তাই দেশেও তেলের বাড়াতে হবে।’
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আরও বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন কথা বলা হলেও বাস্তবে দেশীয় সম্পদ, বিশেষ করে গ্যাস উত্তোলনে তেমন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের নানা গল্প শোনানো হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। সেই সময়ে অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থাও ডেভেলপমেন্ট প্যারাডক্স খুঁজেছে। এখন তারা কোথায় আমরা জানি না। কিন্তু এখন যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, সেটা একটা ভয়াবহ। আমরা প্রতিবারই সংকটকালে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছি।’
আজ বৃহস্পতিবার এক গবেষণা উপস্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ক্ষুদ্রঋণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) ভবনের মিলনায়তনে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। ‘দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীর ক্ষমতায়নে ক্ষুদ্রঋণের প্রভাব এবং নির্ধারক’ শীর্ষক এই গবেষণা করে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড), কুমিল্লা। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এমআরএর নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন; বার্ড, কুমিল্লার মহাপরিচালক সাইফ উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক শুভাশীষ বড়ুয়া প্রমুখ।
দেশের ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগযোগ্য তহবিল কাজে লাগিয়ে ভোক্তা ও উৎপাদকের জন্য ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করায় জোর দেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বলেন, গণতান্ত্রিক কল্যাণকর রাষ্ট্র তৈরিতে তিনটা বিষয়ে নজর দিতে হবে। প্রথমটি হচ্ছে, শ্রমবাজারে নারীর আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, কৃষি খাতে সমবায়ভিত্তিক উদ্যোগ, বিশেষ করে কৃষিপণ্য উৎপাদক সমবায় ও বিক্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলা। তৃতীয়টি হচ্ছে, আগামী বছরের মধ্যে দেশের সব মানুষকে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনা।
এমআরএর নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, এ ধরনের গবেষণা থেকে ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির প্রভাবের বিষয়ে গুণগত ধারণা নেওয়া যেতে পারে, যা ভবিষ্যতে বড় পরিসরে গবেষণার জন্য ভালো উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষক রঞ্জন গুহ। তিনি বলেন, এই গবেষণার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ক্ষুদ্রঋণের বহুমাত্রিক দারিদ্র্য ও নারীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কতটা কার্যকর, তা নিরূপণ করা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক শুভাশীষ বড়ুয়া বলেন, এই গবেষণায় দেখা যায় সবার ক্ষেত্রে ক্ষুদ্রঋণের প্রভাব একরকম নয়। যাঁদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ আছে, তাঁরা ক্ষুদ্রঋণ ব্যবহার করে তুলনামূলকভাবে বেশি উন্নতি করতে পারেন। ক্ষুদ্রঋণ শুধু দারিদ্র্য নয়, শিক্ষা, দক্ষতা ও নারীর ক্ষমতায়নের সঙ্গে কীভাবে কাজ করে, সে সম্পর্কেও গবেষণাটি থেকে ধারণা পাওয়া যায়।