অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঋণের শর্তের ব্যাপারে বৈঠক করতে এরপর আরেকটি দল আসবে। সেই দলের নেতৃত্ব দেবেন আইএমএফের ভারত, বাংলাদেশ, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার নির্বাহী পরিচালক সুরজিৎ ভালা। দর–কষাকষি চূড়ান্ত হলে ঋণ অনুমোদনের বিষয়টি ওয়াশিংটনে আইএমএফের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থাপন করা হবে।

বাংলাদেশ এর আগে আইএমএফ থেকে চারবার ঋণ নেয়। প্রথমবার ঋণ নেওয়া হয় ১৯৯০-৯১ সময়ে। এর পর ২০০৩-২০০৪, ২০১১-১২ এবং সর্বশেষ ২০২০-২১ সালে সংস্থাটি থেকে ঋণ নেয় বাংলাদেশ। তবে কোনোবারই ঋণের পরিমাণ ১০০ কোটি ডলার ছাড়ায়নি।

সদস্য হিসেবে আইএমএফ থেকে বাংলাদেশ বছরে ১০০ থেকে ১৫০ কোটি ডলার পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার যোগ্য। ফলে বর্ধিত ঋণ সহায়তা (ইসিএফ), বর্ধিত তহবিল সহায়তা (ইএফএফ) এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবিলার জন্য গঠিত সহনশীলতা ও টেকসই তহবিল (আরএসএফ)-আইএমএফের এই তিন কর্মসূচি থেকে আলাদা করে ঋণ চাওয়া হবে। ইসিএফ থেকে নেওয়া ঋণে সুদ ও মাশুল দিতে হয় না। ১০ বছর মেয়াদি এ ঋণ পরিশোধে সাড়ে ৫ বছর গ্রেস পিরিয়ডও রয়েছে। বাকি দুটি তহবিল থেকে দেওয়া ঋণের সুদহার ১ দশমিক ৫৪ থেকে ১ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

সরকার চলতি ২০২২–২৩ অর্থবছরের বাজেটে জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের ভর্তুকি বাবদ ৮২ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা রেখেছে। এত বেশি ভর্তুকির যৌক্তিকতা আছে কি না, তা বিবেচনা করতে পারে আইএমএফ। পাশাপাশি সরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ও সুশাসনের ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।

আইএমএফের সাবেক কর্মকর্তা ও পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর এ নিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ‘শর্ত দিয়েও আইএমএফ যদি ঋণ দেয়, তা ভালো কথা।

কিন্তু আমাদের তো কাজ করতে হবে মূল জায়গায়। সমস্যার সমাধান করতে হবে পলিসি দিয়ে। ভর্তুকি কমানো, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, আর্থিক খাতে সংস্কার—এগুলো তো নিজেদেরই করার কথা, আইএমএফকে কেন বলতে হবে। তবে এসব শর্ত মেনে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করলে কাজের কাজই হবে।’

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন