জানা গেছে, গতকাল রিজার্ভ থেকে বিক্রি করা হয়েছে ৭ কোটি ২০ লাখ ডলার। চলতি মাসের ৪ দিনে প্রায় ৪৬ কোটি ডলার বেশি বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ৭ নভেম্বর ১৩ কোটি ডলার, ১০ নভেম্বর ১০ কোটি ৯০ লাখ ডলার, ১৪ নভেম্বর ১০ কোটি ২০ লাখ ডলার ও ১৫ নভেম্বর সাড়ে ১১ কোটি ডলার বিক্রি করা হয়েছে।

করোনার সময় দেশে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় আসে। তখন ডলারের বাজার ও দাম স্থিতিশীল রাখতে ২০২০-২১ অর্থবছরে বাজার থেকে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার কিনে নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে গত বছরের আগস্টে রিজার্ভ বেড়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছেড়ে যায়। গত অর্থবছর (২০২১–২২) রিজার্ভ থেকে সব মিলিয়ে ৭ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই ধারা অব্যাহত আছে চলতি অর্থবছরও। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন বা ৫৯৪ কোটি ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সব মিলিয়ে গত ১৫ মাসে রিজার্ভ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ১৩ বিলিয়ন ডলার বাজারে ছেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আগে বেসরকারি আমদানিকারকদের ডলার দিলেও এখন দিচ্ছে না। ফলে ডলারের জন্য ব্যাংকগুলোর শেষ আশ্রয়স্থল বলে কিছু নেই। ডলার–সংকটের কারণে আমদানির ঋণপত্র খোলা কমিয়ে দিয়ে ব্যাংকগুলো। বর্তমানে ছোট-বড় সব আমদানিকারকই ঋণপত্র খুলতে সমস্যায় পড়ছেন।

ঋণপত্র খোলা কমেছে

ডলার–সংকট, আমদানিতে নিয়ন্ত্রণের কারণে ব্যাংকে এখন ঋণপত্র খোলা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেছে। গত অক্টোবরে ঋণপত্র খোলা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলারে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৮ শতাংশ কম। গত সেপ্টেম্বরেও ৮ বিলিয়ন ডলারের ঋণপত্র খোলা হয়েছিল। সেই হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে ঋণপত্র খোলা প্রায় অর্ধেক কমে গেছে।

এদিকে চলতি মাসের ১ থেকে ১৬ নভেম্বর ঋণপত্র খোলা হয়েছে ১ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলারের, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৩ শতাংশ কম। গত জুলাই থেকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত সব মিলিয়ে ঋণপত্র খোলা হয়েছে ১৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ বিলিয়ন ডলারের। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৩০ শতাংশ কম। তবে ঋণপত্র খোলা কমলেও ঋণপত্র নিষ্পত্তির পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জিএম আবুল কালাম আজাদ বলেন,‘সরকারি আমদানি বিলে ডলার জোগান দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি অব্যাহত আছে। ঋণপত্র খুলতে কোনো বাধা নেই। ব্যাংকগুলো ডলার জোগান সাপেক্ষে ঋণপত্র খুলে যাচ্ছে।