বড় বাজেটের পক্ষে যেসব যুক্তি দিলেন অর্থমন্ত্রী

আজ বুধবার রাজধানীর এক হোটেলে আগামী বাজেট নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও এফবিসিসিআইয়ের যৌথ পরামর্শক সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীছবি– প্রথম আলো

আগামী অর্থবছরে বড় বাজেট দেওয়ার পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দেশের বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনীতি সংস্কারে সময়ের প্রয়োজন। তবে দারিদ্র্য বিমোচন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্যই বড় বাজেট দেওয়ার দরকার। কারণ, ব্যয় বৃদ্ধির দরকার। অর্থনীতি যে জায়গায় আছে, একে ওপরের দিকে নিয়ে না গেলে চলবে না।

আজ বুধবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আগামী অর্থবছরের বাজেটের ওপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও এফবিসিসিআই আয়োজিত পরামর্শক কমিটির বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন।

এনবিআরের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। পুরো বৈঠক সঞ্চালনা করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক আবদুর রহিম খান। বৈঠকে বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী নেতারা বক্তব্য দেন। অনেকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ চেয়েও পাননি।

অর্থমন্ত্রীর যুক্তি

বড় বাজেট দেওয়ার পক্ষে যুক্তি দিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, গুণগত মানসম্পন্ন বিনিয়োগ দরকার। বাজেট বড় করা না হলে কেউ বিনিয়োগ করতে আসবেন না। আবার উন্নয়ন বাজেটও বাড়াতে হবে। নইলে মোট দেশজ উন্নয়নের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হবে না। তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগ যেমন দরকার, বিনিয়োগের রিটার্নও দরকার। মেগা প্রকল্প করে অর্থ পাচার করলে তো সমস্যা।’

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘শুনে খারাপ লাগতে পারে, আগামী বাজেটে ইচ্ছা থাকলেও সুযোগ-সুবিধা হয়তো দিতে পারব না। তবে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে যেসব বাধা বিদ্যমান রয়েছে, সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হবে। বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধিই দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেবে।’

চট্টগ্রাম বন্দরের সেবা মাশুল ৪০ শতাংশ বৃদ্ধির দরকার ছিল না বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বন্দরে দুর্নীতি ও ব্যবসা করার ক্ষেত্রে বাধা সরিয়ে দেওয়া হবে। ব্যবসায়ের যত বাধা আছে, সরকারকে জানালে আগামী তিন মাসের মধ্যে সেগুলো সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। কোথায় কোথায় ব্যবসায়ীরা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন, তা জানানোর আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের বয়স মাত্র দুই মাস। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে নতুন সরকারকে বাড়তি প্রায় ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার খরচ করতে হয়েছে। অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে সময় চাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আইএমএফকে বলেছি যে আমাদের দুই বছরের কুশন দরকার। তৃতীয় বছর থেকে অর্থনীতি গতি পাবে।’ কুশন মানে হচ্ছে খারাপ সময়ে টিকে থাকার জন্য নিরাপদ প্রস্তুতি।

তৈরি পোশাক খাত ভালো করলেও স্বর্ণ বা হিরাশিল্পের মতো অন্যান্য খাত পিছিয়ে রয়েছে—এ কথা উল্লেখ করে পিছিয়ে থাকার কারণ খতিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এখন থেকে যেকোনো সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত যদি প্রস্তাব দেয়, তবে তাদের পোশাকশিল্পের সমান সুবিধা দেওয়া হবে। চুরির ভয়ে আমরা খাতগুলো আটকে রাখব না। চুরির সমাধান আলাদাভাবে হবে, কিন্তু ব্যবসার সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব আদায় বাড়াতে ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড ও ওয়ার ওয়ালেট—এমন পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে করদাতা ও কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি সংযোগ কমানো হবে, যা দুর্নীতি কমাবে। মন্ত্রিসভায় ইতিমধ্যে এ–বিষয়ক ডিজিটাল প্রকল্প পাস হয়েছে।

কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে ব্যবসায়ী সংগঠন ও চেম্বারগুলোকে সহায়তা করার অনুরোধ জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, যাঁরা এখনো কর জালের বাইরে থেকে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করছেন, তাঁদের করের আওতায় আনতে ব্যবসায়ীদের সহায়তা চান। তিনি ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেন, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি নয়, বরং অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণে বিশ্বাসী বর্তমান সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী বাজেটের আকার হতে যাচ্ছে ৯ লাখ কোটি টাকার বেশি। চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরের বাজেট ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা।