কাঁচা পাট রপ্তানির অনুমতি পেল ১৮ প্রতিষ্ঠান, বড় অংশ যাবে ভারতে

পাটফাইল ছবি

কাঁচা পাট রপ্তানির অনুমতি পেল দেশের ১৮টি প্রতিষ্ঠান। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই অনুমতি দিয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো মোট ৬ হাজার ৩৭৭ টন কাঁচা পাট রপ্তানি করতে পারবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত বৃহস্পতিবার প্রধান আমদানি রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। কাঁচা পাট রপ্তানির বড় অংশই যাবে ভারতে।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গত সেপ্টেম্বর মাসে সিদ্ধান্ত হয় যে অনুমতি নিয়ে কাঁচা পাট রপ্তানি করতে হবে। কিন্তু ওই ১৮টি প্রতিষ্ঠান আগেই রপ্তানির বিপরীতে আমদানিকারকের টিটি (টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফার) পেয়েছিল। তাই এখন তাদের বিশেষ এই সুবিধা দেওয়া হয়।

কোন কোন প্রতিষ্ঠান অনুমতি পেল

যেসব প্রতিষ্ঠান অনুমতি পেয়েছে, সেগুলো হচ্ছে তাসফিয়া জুট ট্রেডিং, এ জেড জুট ট্রেডিং, এস এস ট্রেডিং, মেসার্স সুকুমার সরকার, জুট ইমপেক্স, সোনালী ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, এম এন জুট ট্রেডিং, মেসার্স রশ্মি কবির, সারতাজ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স আর এস ট্রেডার্স, তৌফিক জুট ট্রেডিং, মেসার্স শরীফ আহমেদ, গাজী ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, বিডি গোল্ড ফাইবার, হুসনা জুট ফাইবার, মুসা জুট ফাইবার, ঢাকা ট্রেডিং হাউস লি এবং মেসার্স এম ডি আবুল কাসেম।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অনুমতি পাওয়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান কাঁচা পাট রপ্তানি করবে ভারতে। বাংলাদেশ সাধারণত ভারত, চীন, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর, নেপাল ইত্যাদি দেশে কাঁচা পাট রপ্তানি করে। তবে বড় আমদানিকারক ভারত।

কেন দেওয়া হলো

টিটির (টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফার) বিপরীতে ওই ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয় বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। টিটি হচ্ছে আন্তর্জাতিক লেনদেনে ব্যাংকের মাধ্যমে সরাসরি টাকা পাঠানোর একটি পদ্ধতি। রপ্তানিকারক আগেই বিদেশি ক্রেতার কাছ থেকে টিটির মাধ্যমে টাকা পেয়ে গেলে সেই টাকার ভিত্তিতে তাকে পণ্য রপ্তানির অনুমতি দেওয়া।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির প্রথম আলোকে বলেন, নিষেধাজ্ঞা যেটা আছে তা থাকবে এবং সরকারের অনুমতি নিয়েই কাঁচা পাট রপ্তানি করতে হবে। এ দফায় যাঁদের রপ্তানি অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তাঁরা আগেই আমদানিকারকদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন। ফলে অনুমতি দিতেই হয়েছে।

কে কত রপ্তানি করতে পারবে

কোনো প্রতিষ্ঠানই বরাদ্দের চেয়ে বেশি কাঁচা পাট রপ্তানি করতে পারবে না। চলতি বছরের অক্টোবরের মধ্যে রপ্তানি করার সব কাজ শেষ করতে হবে। এমন শর্ত দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পেয়েছে তাসফিয়া জুট ট্রেডিং। এ প্রতিষ্ঠান রপ্তানি করতে পারবে ১ হাজার ৭৪০ টন কাঁচা পাট। আর সবচেয়ে কম অর্থাৎ ৬০ টন কাঁচা পাট রপ্তানি করার অনুমতি পেয়েছে গাজী জুট ইন্টারন্যাশনাল।

তাসফিয়া জুট ট্রেডিংয়ের বাইরে ৩০০ টনের বেশি কাঁচা পাট রপ্তানির অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠান রয়েছে আরও পাঁচটি। ঢাকা ট্রেডিং হাউস ৮০০ টন, সারতাজ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ৭৯০ টন, এম এন জুট ট্রেডিং ৫৭০ টন, মেসার্স রশ্মি কবির ৪০০ টন ও মুসা জুট ফাইবার ৩০০ টন রপ্তানির অনুমতি পেয়েছে।

কেন অনুমতি নিতে হবে

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক পরিপত্র জারি করে বলেছিল, কাঁচা পাট রপ্তানি করতে গেলে এখন থেকে সরকারের অনুমতি নিতে হবে। বিদ্যমান রপ্তানি নীতি ২০২৪-২৭-এ শর্ত সাপেক্ষে পণ্য রপ্তানির একটি তালিকা রয়েছে। এই তালিকায় কাঁচা পাট ছিল না এত দিন। রপ্তানি নীতি সংশোধন করে পরিপত্রে শর্ত যুক্ত পণ্য তালিকার ১৯ নম্বর ক্রমিকে কাঁচা পাটকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধ করার জন্য বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন গত বছরের ২৫ আগস্ট তৎকালীন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের কাছে যৌথভাবে একটি আবেদন করে। এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্তটি নিয়েছে বলে জানা গেছে। এরপরই প্রতিষ্ঠানগুলো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন জমা দেয়।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে কাঁচা পাট রপ্তানি হয় ১০ লাখ বেল। বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তাপস প্রামাণিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘সিদ্ধান্তটি আত্মঘাতী এবং কাঁচা পাট রপ্তানি একধরনের বিলাসিতা। আমরা কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধই করতে বলেছিলাম। সরকার তা করেনি। প্রতি মণ কাঁচা পাট ৫ হাজার টাকা করে কিনে আমাদের কারখানা চালাতে হচ্ছে।’