এক মাসের মধ্যে কয়েকটি শহরে কিছু ব্যক্তি ও বিপণির মধ্যে সাধারণের ব্যবহার্য মুদ্রার পরীক্ষামূলক লেনদেন শুরু হবে।

ডিজিটাল মুদ্রা এখন সারা বিশ্বেরই বাস্তবতা। কিন্তু সমস্যা হলো, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণের বাইরে এটি পরিচালিত হয়েছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের কারণে মানুষ ক্ষতির মুখে পড়েছেন বা প্রতারিত হয়েছেন, এমন খবরও বিরল নয়। এ নিয়ে তদন্তে নেমেছে ইডির মতো তদন্তকারী সংস্থা; বারবার সতর্ক করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও রিজার্ভ ব্যাংক। সাধারণ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে লেনদেনে ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যে প্রায় ৬০টি দেশে শীর্ষ ব্যাংক পরিচালিত ডিজিটাল মুদ্রা নিয়ে কাজ চলছে। চীন ইতিমধ্যে ডিজিটাল ইউয়ান চালু করেছে।

একঝলকে ই-রুপির বৈশিষ্ট্যগুলো দেখে নেওয়া যাক: ‘ই-রুপি’ ব্লক-চেইন প্রযুক্তিচালিত ডিজিটাল মুদ্রা। এই মুদ্রার দুটি ভাগ—সাধারণের জন্য (খুচরা) ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য (পাইকারি)। গতকাল পাইকারি ক্ষেত্রে কিছু লেনদেনের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ই-রুপি এসেছে। যেমন সরকারি ঋণপত্রে ব্যাংকের বিনিয়োগ। প্রথম দফায় অংশ নেবে স্টেট ব্যাংক, ব্যাংক অব বরোদা, ইউনিয়ন ব্যাংক, এইচডিএফসি ব্যাংক, আইসিআইসিআই ব্যাংক, কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাংক, ইয়েস ব্যাংক, আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাংক ও এইচএসবিসি। এক মাসের মধ্যে কয়েকটি শহরে কিছু ব্যক্তি ও বিপণির মধ্যে সাধারণের ব্যবহার্য মুদ্রার পরীক্ষামূলক লেনদেন শুরু হবে। আরবিআইয়ের লক্ষ্য হলো, সাধারণ মুদ্রার বৈশিষ্ট্য বজায় রেখেই এতে ডিজিটাল মুদ্রার সুবিধা যোগ করা।

এই পরিস্থিতিতে গত বাজেটে ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের ঘোষণা ছিল, অনলাইনে ব্যবহারের ডিজিটাল মুদ্রা আনবে একমাত্র রিজার্ভ ব্যাংক। ব্লক–চেইন প্রযুক্তিনির্ভর হবে এই মুদ্রা। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকায় এই ডিজিটাল মুদ্রায় লেনদেনে ঝুঁকি তেমন একটা থাকবে না। এর হাত ধরে আন্তর্জাতিক ডিজিটাল লেনদেনব্যবস্থা তৈরিতেও গতি আসবে।

সেই হিসাবে গত সোমবার আরবিআই জানিয়েছে, ১ নভেম্বর পাইকারি ক্ষেত্রে কিছু লেনদেনের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ই-রুপি আনা হয়েছে। প্রথম দফায় এতে অংশ নেবে স্টেট ব্যাংক, ব্যাংক অব বরোদা, ইউনিয়ন ব্যাংক, এইচডিএফসি ব্যাংক, আইসিআইসিআই ব্যাংক, কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাংক, ইয়েস ব্যাংক, আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাংক ও এইচএসবিসির মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

যেভাবে কাজ করে ডিজিটাল মুদ্রা

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডিজিটাল মুদ্রা প্রবর্তন করলেও তার জন্য ইকোসিস্টেম বা বিশেষ ব্যবস্থা দরকার হয়। অর্থাৎ টাকার মতোই সব কাজে সব জায়গায় এই ডিজিটাল মুদ্রা দিয়ে পণ্য বা সেবা ক্রয়–বিক্রয়ের সুযোগ থাকতে হবে। প্রত্যন্ত এলাকার একজন মুদিদোকানিকেও তা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। 

ডলারের আধিপত্য কমবে

ডিজিটাল মুদ্রার জগতে অভিন্ন বিনিময় মাধ্যমের কদর কমবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। অর্থাৎ বৈশ্বিক রিজার্ভের বাজারে মার্কিন ডলারের যে একক আধিপত্য, তা কমে যেতে পারে। তখন বিভিন্ন দেশ সরাসরি ডিজিটাল মুদ্রায় বিনিময় করতে পারবে, অভিন্ন মাধ্যম হিসেবে ডলারের প্রয়োজন পড়বে না। বৈশ্বিক আর্থিক বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম সুইফটেরও প্রয়োজন পড়বে না।