৩৩০০ প্রবাসী বাংলাদেশি করদাতা বিদেশ থেকে কর দিয়েছেন

৩ হাজার ৩০০ প্রবাসী বাংলাদেশি করদাতা বিদেশ থেকে আয়কর রিটার্ন দিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁরা কর পরিশোধ করেছেন। প্রতিদিন গড়ে ১০০ জন প্রবাসী বাংলাদেশি করদাতা তাঁদের আয়কর রিটার্ন দিচ্ছেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এ ছাড়া প্রায় পাঁচ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি তাঁদের ই-মেইল ঠিকানায় পাঠানো ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ডের (ওটিপি) মাধ্যমে ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন নিয়েছেন।

কীভাবে রিটার্ন দেন প্রবাসী করদাতারা

বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতাদের রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক নয়। প্রবাসী বাংলাদেশি করদাতারা তাঁদের পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর (এনআইডি), ই-মেইল ঠিকানা ইত্যাদি তথ্য ereturn@etaxnbr. gov.bd ই-মেইলে পাঠিয়ে আবেদন করেন। পরে এনবিআর থেকে আবেদনকারীর ই-মেইলে ওটিপি ও নিবন্ধন লিংক পাঠানো হয়। এভাবে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতারা ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন করে সহজেই অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারছেন।

৩২ লাখ করদাতা ই-রিটার্ন দিয়েছেন

গতকাল সোমবার পর্যন্ত ৪৫ লাখ ৫৩ হাজার করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন নিয়েছেন। ৩১ লাখ ৮৮ হাজার করদাতা অনলাইনে রিটার্ন বা ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন।

গত ৪ আগস্ট অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এ বছরের জন্য অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

এ বছর সব করদাতার অনলাইনে রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে ছাড় দেওয়া হয়েছে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে আইনি প্রতিনিধি কর্তৃক রিটার্ন দাখিল এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের।

এনবিআর বলছে, যাঁদের জন্য ই-রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়নি, তাঁরাও অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করছেন।

করদাতাদের সুবিধার জন্য সরকার ইতিমধ্যে রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়িয়েছে।

অনলাইনে দেবেন কীভাবে

সব করদাতাকে রিটার্ন দিতে হলে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে জমা দিতে হবে। এ জন্য প্রথমে নিবন্ধন নিতে হবে। নিবন্ধন নিয়ে পাসওয়ার্ড দিয়ে ওয়েবসাইটে ঢুকে আপনি আপনার রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।

অনলাইনে রিটার্ন জমার আগে প্রথমে করদাতাকে নিবন্ধন নিতে হবে। নিবন্ধন নিতে করদাতার নিজের কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) ও বায়োমেট্রিক করা মুঠোফোন নম্বর লাগবে। এ দুটি দিয়ে নিবন্ধন করে অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। অনলাইনে রিটার্ন জমা দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রাপ্তি রসিদ মিলবে।

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন বা ই-রিটার্ন দিতে কোনো কাগজপত্র আপলোড করতে হয় না। এসব কাগজের তথ্য দিলেই হবে। তবে যেসব কাগজের তথ্য দেবেন, তা সংরক্ষণ করবেন। কারণ, ভবিষ্যতে নিরীক্ষা বা অন্য কোনো প্রয়োজনে কাগজপত্র চাইলে যেন তা দিতে পারেন।

অনলাইনে রিটার্ন দেওয়ার সময় ঘরে বসেই কর দিতে পারবেন। যেমন ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদ অথবা অন্য কোনো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন।

যেসব দলিলের তথ্য প্রয়োজন

রিটার্ন জমার সময় নিজের প্রয়োজন অনুসারে কিছু কাগজপত্রের তথ্য লাগবে। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিস থেকে এসব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড় করতে হবে। যেসব কাগজপত্র লাগবে, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বেতন খাতের আয়ের দলিল, সিকিউরিটিজের ওপর সুদ আয়ের সনদ, ভাড়ার চুক্তিপত্র, পৌরকরের রসিদ, বন্ধকি ঋণের সুদের সনদ, মূলধনি সম্পদের বিক্রয় কিংবা ক্রয়মূল্যের চুক্তিপত্র ও রসিদ, মূলধনি ব্যয়ের আনুষঙ্গিক প্রমাণপত্র, শেয়ারের লভ্যাংশ পাওয়ার ডিভিডেন্ড ওয়ারেন্ট, সুদের ওপর উৎসে কর কাটার সার্টিফিকেট।

বিনিয়োগ করে কর রেয়াত পেতে চাইলেও কিছু কাগজপত্র লাগবে। যেমন জীবন বিমার কিস্তির প্রিমিয়াম রসিদ, ভবিষ্য তহবিলে দেওয়া চাঁদার সনদ, ঋণ বা ডিবেঞ্চার, সঞ্চয়পত্র, শেয়ারে বিনিয়োগের প্রমাণপত্র, ডিপোজিট পেনশন স্কিমে (ডিপিএস) চাঁদার সনদ, কল্যাণ তহবিলের চাঁদা ও গোষ্ঠী বিমার কিস্তির সনদ, জাকাত তহবিলে দেওয়া চাঁদার সনদ।