আমরা ফস্টার করপোরেশনের আবেদনটি পেয়েছি। এটা নিয়ে পর্যবেক্ষণ চলছে। শিগগিরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মো. হাফিজুর রহমান, প্রধান, কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেল, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেলের প্রধান মো. হাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা ফস্টার করপোরেশনের আবেদনটি পেয়েছি। এটা নিয়ে পর্যবেক্ষণ চলছে। শিগগিরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

ফস্টারের অভিযোগে বলা হয়েছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাসে দুটি তালিকা করে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের কথা কিউকমের। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি তা করেনি। বরং গ্রাহকের টাকা ছাড়ের ব্যাপারে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। ফলে কিউকমের গ্রাহকেরা পাওনার জন্য ফস্টারের কার্যালয়ে এসে চাপ প্রয়োগ করছে। 

কিউকমের যাত্রা শুরু ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ইভ্যালির মতো তারাও বিশাল ছাড়ে পণ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন দিলে গ্রাহকেরা হুমড়ি খেয়ে পড়েন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অনেক গ্রাহককে পণ্য সরবরাহ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। ফলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ জমা পড়ে। 

যাত্রা শুরুর দুই মাসের মাথায় ফস্টারের সঙ্গে কিউকমের চুক্তি হয়। এরপর ফস্টারের পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে বাণিজ্যিক লেনদেন শুরু হয়। ২০২১ সালের ২৪ জুন থেকে ২০২২ সালের ১৮ জুন পর্যন্ত এক বছরে লেনদেন হয়েছে ৬৩ হাজার ৯৬১টি, যার বিপরীতে টাকার পরিমাণ ৫৬৪ কোটি ৩৫ লাখ। কিউকমের ব্যাংক হিসাবে থাকা এ পুরো টাকাই ফস্টার নিষ্পত্তি করেছে। 

গ্রাহকেরা পণ্য পাওয়ার পর গেটওয়ে প্রতিষ্ঠান ই–কমার্স প্রতিষ্ঠানকে টাকা ছাড় করবে—২০২১ সালের ৩০ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক এমন একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। ফস্টার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে বলেছে, এরপর কিউকমকে ফস্টারের প্রস্তাবিত ফরম অনুযায়ী তালিকা পাঠাতে বলা হলেও সঠিক তালিকা দিতে পারেনি কিউকম। তাই একই বছরের ২৮ ডিসেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেয়, ফস্টার ও কিউকম মিলে যৌথভাবে তালিকা করবে এবং সে তালিকা অনুযায়ী যাঁরা টাকা দিয়েছেন কিন্তু পণ্য পাননি, তাঁদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। 

ফস্টার জানায়, ২০২২ সালের ১০ জানুয়ারি ৬ হাজার ৭২১টি লেনদেনের বিপরীতে ৫৯ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার আংশিক তালিকা তৈরি হয় এবং ২৪ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে টাকা ফেরত দেওয়া শুরু হয়। এরপর গত বছরের ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট তালিকা তৈরি করা হয় ১০টি। এই ১০টি তালিকা থেকে ফেরত দেওয়া হয় ২৬৩ কোটি টাকা। 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে ফস্টার আরও জানিয়েছে, এক বছরের বেশি সময় ধরে ফস্টার লেনদেন সেবা দেওয়া থেকে বেরিয়ে গেছে। তাই কিউকম ও তার গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কাজটি শিগগিরই কার্যকর না করলে প্রক্রিয়াটি ঝুঁকিতে পড়বে। ফস্টার চায়, যেসব গ্রাহককে পণ্য দেওয়া হয়েছে এবং যাঁদের পণ্য দেওয়া হয়নি, দুই তালিকাই যেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে জমা দেয় কিউকম। 

ফস্টার করপোরেশনের চিঠি পেয়েছেন জানিয়ে কিউকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিপন মিয়া গত বৃহস্পতিবার বলেন, ‘গ্রাহকের টাকা ফেরত দেওয়ায় দেরি করেছে ফস্টারই। আমরা আরেকটি তালিকা তৈরি করছি, যা আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেব। এটাই হবে গ্রাহকদের জন্য শেষ তালিকা।’

পাওনা ১৩১ কোটি টাকা কবে পাবেন গ্রাহকেরা, এমন প্রশ্নের জবাবে রিপন মিয়া বলেন, ‘২৬৩ কোটি নয়, ফেরত দেওয়া হয়েছে ২৮০ কোটি টাকা। আর ৩৯৪ কোটি টাকার মধ্যে সবই গ্রাহকদের নয়। আমার টাকাও রয়েছে। গ্রাহকদের অংশ ফেরত দেওয়ার পরই আমারটার জন্য লড়াই করব।’