ইলিশ চাষের অনুমোদন নেই জানাল মন্ত্রণালয়, প্রাণ–আরএফএল গ্রুপ এখন কী করবে

ইলিশ মাছ চাষের বিষয়ে সরকারের কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত বা অনুমোদন নেই বলে জানিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। বর্তমানে কৃত্রিম পদ্ধতি কিংবা অন্য কোনো আবদ্ধ, সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত ও নিবিড় পদ্ধতিতে ইলিশ চাষ বা সংশ্লিষ্ট কোনো কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেওয়া হয়নি বলেও জানানো হয়েছে।

আজ সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা, অনলাইন সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইলিশ মাছের কৃত্রিম পরিবেশে চাষসংক্রান্ত যে আলোচনা ও তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করেছে।

এ দিকে গত ২২ জানুয়ারি প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, ইলিশ মাছ চাষ করতে চায়। এ জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে ডেনমার্কের প্রতিষ্ঠান অ্যাসেনটপ্ট অ্যাকুয়া ও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের হবিগঞ্জ অ্যাগ্রো লিমিটেড। এই খবরের পরিপ্রেক্ষিতেই বিষয়টি পর্যালোচনা করতে গতকাল বৈঠক করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

বিশেষ প্রযুক্তি রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম (আরএএস) ব্যবহার করে আবদ্ধ, সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত ও নিবিড় পদ্ধতিতে ইলিশ ও বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ চাষসংক্রান্ত এক সভা গতকাল রোববার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের সভাপতিত্বে সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, মৎস্য অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভার সার্বিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, ইলিশ মাছ বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য। দেশের নদী ও উপকূলীয় প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র, খাদ্যনিরাপত্তা, ঐতিহ্য এবং বিপুলসংখ্যক জেলে ও মৎস্যজীবীর জীবিকার সঙ্গে ইলিশ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ইলিশের উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা মূলত প্রাকৃতিক প্রজনন চক্র এবং নদীনির্ভর পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এ-সংক্রান্ত যেকোনো উদ্যোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং নীতিনির্ভর বিষয়।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইলিশ-সংক্রান্ত যেকোনো গবেষণা, পরীক্ষামূলক উদ্যোগ বা প্রযুক্তিগত কার্যক্রম অবশ্যই বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও জাতীয় স্বার্থের আলোকে এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে পরিচালিত হতে হবে। অনুমোদনবিহীন কোনো কার্যক্রম গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে জনগণসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে বিভ্রান্ত না হয়ে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর আস্থা রাখার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

ইলিশ চাষ করতে চায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ

এর আগে ২২ জানুয়ারি রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইলিশ মাছ চাষ করার কথা জানিয়েছিল প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। সামুদ্রিক মাছ ইলিশ, এশিয়ান সিবাস ও গ্রুপার মাছ চাষ করতে চায় প্রাণ-আরএফএলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হবিগঞ্জ অ্যাগ্রো লিমিটেড।

এ লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে ডেনমার্কের প্রতিষ্ঠান অ্যাসেনটপ্ট অ্যাকুয়া ও হবিগঞ্জ অ্যাগ্রো লিমিটেড। প্রকল্প বাস্তবায়নে যৌথভাবে দুই বছরে ৩ কোটি ইউরো বিনিয়োগ করবে দুই প্রতিষ্ঠান। গত ২২ জানুয়ারি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় প্রাণ-আরএফএল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল আজ বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ডেনমার্কের প্রতিষ্ঠান অ্যাসেনটপ্ট অ্যাকুয়া আমাদের সঙ্গে যৌথভাবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসেবে ইলিশ মাছ চাষের কথা বলেছিল। সে জন্য প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো চুক্তি হয়নি। এটার কৌশলগত দিক পর্যালোচনা করে চাষ করার মতো হলে পরবর্তী সময়ে সরকারের কাছে অনুমোদনের জন্য যাওয়া হবে। বিষয়টি এখনো অনুমোদনের পর্যায়ে যায়নি। এমন কিছু করা হলে অবশ্যই অনুমোদন নিয়েই করা হবে।’