করপোরেট কর পরিশোধে নতুন সুবিধা এনেছে বিকাশ

বিকাশের মাধ্যমে ডিজিটাল শুল্ক-কর পরিশোধব্যবস্থার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানসহ এনবিআর ও বিকাশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাছবি: সংগৃহীত

করপোরেট ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন যেকোনো স্থান থেকে সহজে শুল্ক-কর ও অন্যান্য সরকারি মাশুল পরিশোধ করতে পারবে। সম্প্রতি ‘করপোরেট ভ্যাট-ট্যাক্স পেমেন্ট সলিউশন’ নামে এই সেবা নিয়ে এসেছে মুঠোফোনে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (এমএফএস) বিকাশ।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিকাশ জানিয়েছে, নতুন এই সেবার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ব্যাংক হিসাব বা ডিসবার্সমেন্ট ওয়ালেট থেকে কোনো খরচ ছাড়াই বিকাশের বিশেষ মার্চেন্ট ওয়ালেটে অর্থ স্থানান্তর করতে পারবে। অর্থাৎ বিকাশ ব্যবহার করে ই-টিডিএস থেকে এ-চালানের মাধ্যমে বড় পরিমাণ অর্থের লেনদেন করতে পারবে কোম্পানিগুলো। ফলে ব্যাংকের শাখায় গিয়ে দীর্ঘ প্রক্রিয়া ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর পরিশোধের ঝামেলা এড়ানো যাবে।

বিকাশের এই প্ল্যাটফর্ম সরাসরি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ই-টিডিএস ও আইবাস, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ প্রাসঙ্গিক সব সরকারি সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত। অর্থাৎ লেনদেনের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সিস্টেমে যুক্ত হবে। ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিজিটাল চালান তৈরি হবে এবং রিয়েল টাইমে লেনদেনের সর্বশেষ অবস্থা (স্ট্যাটাস) যাচাই করা যাবে। এতে করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও তাদের ভেন্ডারদের আর কাগজপত্র, ম্যানুয়াল রিকনসিলিয়েশন বা সার্টিফিকেট আদান-প্রদানে সময় নষ্ট হবে না।

আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে সেবাটির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, এই সেবা চালুর মাধ্যমে কর ব্যবস্থাপনার ডিজিটাইজেশন এক ধাপ এগিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো সহজে, নিরাপদে ও রিয়েল টাইমে কর পরিশোধ করতে পারবে। এতে নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকিও কমবে।

আবদুর রহমান খান আরও বলেন, টাকা ছাপানো ও তা ব্যবস্থাপনায় প্রতিবছর সরকারের খরচ হয় অন্তত ২০ হাজার কোটি টাকা। তাই দেশের অর্থনীতিকে আরও স্বয়ংক্রিয় করতে পারলে এই খরচ কমে আসবে। অনলাইনে কর আদায়ব্যবস্থা তথা ই-টিডিএসকে আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে সার্বিক কর আদায় ২০ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

অনুষ্ঠানে বিকাশের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) মঈনুদ্দিন মোহাম্মদ রাহগীর বলেন, এই পেমেন্ট চ্যানেলের মাধ্যমে ব্যাংকিং সময় বা শাখায় সশরীর যাওয়া ছাড়াই সপ্তাহের যেকোনো দিন এবং যেকোনো স্থান থেকে কর, শুল্ক ও অন্যান্য সরকারি মাশুল পরিশোধ করা যাবে। এতে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মক্ষেত্র থেকেই পুরোপুরি ডিজিটালভাবে কর দিতে পারবে।