এক কেজি জিলাপির দাম ৪ হাজার টাকা, কোন পাঁচ তারকা হোটেলে দাম কত
রোজা এলে ইফতারে যে খাবারগুলো পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নেয়, তার মধ্যে অন্যতম জিলাপি। এ খাবারটির চাহিদাও ব্যাপক। রাজধানীর তারকা হোটেলের রেস্তোরাঁগুলো রোজা উপলক্ষে জিলাপি বিক্রি করে থাকে। অভিজাত শ্রেণির অনেকেই সেখান থেকে জিলাপি কেনেন। সঙ্গে থাকে ইফতারির পসরা।
এবার রাজধানীর গুলশানের পাঁচ তারকা হোটেল দ্য ওয়েস্টিনে এক কেজি জিলাপির বিক্রি হচ্ছে চার হাজার টাকায়। এই রোজায় এটিই জিলাপির সর্বোচ্চ দাম। এই চার হাজার টাকা কেজি জিলাপিতে রয়েছে জাফরান।
জানতে চাইলে দ্য ওয়েস্টিন ঢাকার সিজনাল টেস্ট রেস্টুরেন্ট ব্যবস্থাপক ইমরান আহমেদ বলেন, সব মিলিয়ে ওয়েস্টিনে ১০ রকমের জিলাপি পাওয়া যায়। তবে রেশমি ও জাফরান দিয়ে তৈরি জিলাপির কদর বেশি। এ ছাড়া চিনিমুক্ত জিলাপিও রয়েছে। দামের থেকেও জিলাপির স্বাদ নির্ভর করে রাঁধুনির গোপন রেসিপির জন্য।
এর আগে দেশে এক কেজি জিলাপির সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল ২০ হাজার টাকা। ২০২৩ সালে রোজায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এই জিলাপি পাওয়া গিয়েছিল। এই জিলাপির দামের পেছনে ছিল সোনা। ২৪ ক্যারেটের সোনার লিফ বা পাতলা পাত দিয়ে মোড়ানো জিলাপি। তখন এই জিলাপি নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা হয়।
এবারের রোজায় আরেক পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে ঘিয়ে ভাজা জিলাপির দাম কেজিতে ২ হাজার ৯০০ টাকা। অন্যদিকে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এক কেজি জিলাপির দাম ৩ হাজার ২০০ টাকা। আধা কেজি জিলাপির দাম রাখা হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ টাকা।
জানতে চাইলে প্যান প্যাসেফিক সোনারগাঁও হোটেলের জনসংযোগ ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ নাফেউজ্জামান বলেন, ‘আমাদের জিলাপি ও হালিম বেশ প্রসিদ্ধ। প্রথম রোজা থেকে দশম রোজা পর্যন্ত আমাদের জিলাপি ও হালিম কিনতে বেশ বড় লাইন তৈরি হয়।’
আবার গুলশানের আমারি হোটেলে এক কেজি জিলাপির দাম ২ হাজার ৮৯৯ টাকা, আর আধা কেজির দাম ১ হাজার ৪৯৯ টাকা। এই জিলাপির দাম দিয়েছে ‘শাহী রেশমি জালেবি’। তারকা হোটেলের রেস্তোরাঁয় জিলাপির দাম আড়াই থেকে চার হাজার টাকার মধ্যেই আছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, বাজারে সাধারণ জিলাপি ধরনভেদ কেজিতে ২০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ঘিয়ে ভাজা কিংবা তিল দিয়ে তৈরি জিলাপি কেজিতে ব্র্যান্ডভেদে বিভিন্ন দোকানে ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
ইফতারি ও সাহ্রির খাবারের দাম কত
ঢাকায় ওয়েস্টিন হোটেলে রয়েছে প্রিমিয়াম ইফতারি বক্স। তিন থেকে ছয়জন খেতে পারবেন এসব ইফতারি বক্স পাওয়া যাচ্ছে ৮ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত। বুফে ইফতারি ও ডিনারের খাবারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার টাকা। বুফে সাহ্রির খাবারগুলোর দাম ৭ হাজার টাকা। তবে বিভিন্ন ব্যাংকের নির্দিষ্ট কার্ডে এ প্যাকেজগুলো একই দামে বাই ওয়ান গেট ওয়ান, টু ও থ্রি অফারে পাওয়া যাবে।
পবিত্র রমজানের ঐতিহ্যবাহী স্বাদ উপভোগ করার সুযোগ দিচ্ছে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও ঢাকা। প্যান প্যাসেফিক সোনারগাঁও হোটেলে শাহি মাটন লার্জ হালিম বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৫০০ টাকায়। আর রেগুলার হালিম বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ২৫০ টাকায়। এই হোটেলে ইফতারি বক্স পাওয়া যাবে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। আর বুফে ইফতারি ও ডিনারের খাবারগুলোর প্যাকেজ রয়েছে ৮ হাজার ৫০০ টাকায়। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ডে রয়েছে পে ওয়ান ইট ফাইভ, ফোর, থ্রি, টু ও ওয়ান সুবিধা।
রাজধানীর পাঁচ তারকা হোটেলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দামি ইফতারির বক্স রয়েছে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে। এই হোটেলের ইফতারি বক্সের দাম ৬ হাজার ৫০০ থেকে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া বুফে ইফতারি ও ডিনারের খাবারগুলোর দাম ১০ হাজার ৫০০ টাকা। বুফে সাহ্রি ৭ হাজার টাকা।
রোজা উপলক্ষে আরেক পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন চালু করেছে বিশেষ ইফতারি ‘সুলতান’স সোফরা: এ তার্কিস ফিস্ট’। এই ইফতারিতে একজনের খরচ হবে প্রায় ১০ হাজার টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ডে রয়েছে ইট ফোর পে ওয়ান ও বাই ওয়ান গেট ওয়ান এবং টু।
আরেক পাঁচ তারকা হোটেল লো মেরিডিয়ান ঢাকায় বুফে ইফতারি ও ডিনারের খাবারের দাম ১২ হাজার ৫০০ টাকা। বুফে সাহ্রি পাওয়া যাচ্ছে ৯ হাজার ৫০০ টাকায়। এ ছাড়া ইস্টার্ন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডধারীরা চাইলে বাই ওয়ান গেট থ্রি অফার পাবেন। এ ছাড়া অন্যান্য নির্দিষ্ট ব্যাংকের গ্রাহকেরা চাইলে বাই ওয়ান গেট ওয়ান এবং টু অফার সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
এ ছাড়া বনানীর শেরাটন হোটেলে বুফে ইফতারি ও ডিনারের খাবারের দাম ১৩ হাজার টাকা। আর বুফে সাহ্রি ৮ হাজার টাকা। আর ইফতারি বক্সের দাম সাড়ে ৮ হাজার থেকে ১৩ হাজার টাকা। তবে নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংকের কার্ডের মাধ্যমে বাই ওয়ান গেট ওয়ান, টু ও থ্রি সুবিধা পাওয়া যাবে।