বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ গতকাল সোমবার বলেন, ‘আমরা যে তালিকা পাঠিয়েছিলাম, তা নিয়ে কাজ করছে এনবিআর। কাজটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে করার জন্য আমি এনবিআর চেয়ারম্যানকে নতুন করে অনুরোধ করব।’

এনবিআর সব বিলাসপণ্য আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধির চিন্তা করছে না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তালিকা থেকে দপ্তরটি বাছাইয়ের কাজ করছে। আবার এ–ও হিসাব করছে, শুল্ক বাড়িয়ে দিলে যদি আমদানি কমে যায়, তাতে রাজস্ব আয় কতটা কমতে পারে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী গম, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপণ্য আমদানিতে গুরুত্ব দিতে এবং ব্যাংকগুলো যাতে ঋণপত্র (এলসি) খোলে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে নির্দেশ দিয়েছেন। গভর্নরও এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি বিলাসদ্রব্য আমদানিতে শুল্ক বাড়িয়ে ধরতে এনবিআরকে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে প্রয়োজনে বেশি দাম দিয়ে জ্বালানি আমদানি করে হলেও শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার ব্যাপারে তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। জানা গেছে, বৈঠকে বৈদেশিক মুদ্রা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়, যার মধ্যে অন্যতম বিষয় হলো ডলারের বাজার। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার প্রধানমন্ত্রীকে জানান, ডলারের বাজারের অস্থিরতা কমে আসতে আগামী জানুয়ারি নাগাদ সময় লেগে যাবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ বৈঠকে জানিয়েছে, সার, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খাদ্যে ভর্তুকি অনেক বেড়ে যাচ্ছে। এক সার আমদানিতেই গত অর্থবছরে ২৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এ পণ্যটির জন্য ভর্তুকি আরও বাড়তে পারে। চলতি অর্থবছরে ভর্তুকি বাবদ মোট বরাদ্দ রয়েছে ৮২ হাজার কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বলেছেন, কৃষি ও খাদ্যে ভর্তুকি অব্যাহত থাকবে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিতে হবে। বাংলাদেশের মতো দেশে এ খাতে ভর্তুকি থাকবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

বিলাসপণ্য আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধিসহ বৈঠকে উপস্থাপিত বিষয়গুলোর কথা শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরীকে জানিয়ে এ বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে তিনি প্রথমআলোকে বলেন, গাড়ি, চকলেট ও শ্যাম্পু আমদানি নিরুৎসাহিত করলে কিছু ডলার হয়তো সাশ্রয় হবে, মোটাদাগে কোনো লাভ হবে না।

চকলেট ব্যবসায়ীর সংসারটা কীভাবে চলবে, সেটাও ভাবতে হবে।আর কারা ডলার পাচার করছে সরকার জানে।চোখ বন্ধ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।আর জ্বালানি হচ্ছে প্রধান অস্ত্র।এর সরবরাহ ঠিক না থাকলে কর্মসংস্থান হবে না, রপ্তানি আয়ও বাড়বে না।