জ্বালানির দাম নিয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত, জানালেন অর্থমন্ত্রী
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, জ্বালানির মূল্য নিয়ে সরকারের আলোচনা হয়েছে এবং এ বিষয়ে শিগগির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, উচ্চমূল্যে তেল-গ্যাস কিনতে গিয়ে সরকারি তহবিলের ওপর বড় চাপ তৈরি হচ্ছে। এভাবে দীর্ঘদিন চললে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রভাব পড়তে পারে।
আজ শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। এ অনুষ্ঠানে কোরীয় রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (কেইপিজেড) অনুষ্ঠিত চিটাগং ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির (সিআইইউ) শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়। এতে তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন। ইয়ং ওয়ান-সিআইইউ একাডেমিক এক্সিলেন্স স্কলারশিপ প্রোগ্রামের আওতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সিআইইউর সহকারী রেজিস্ট্রার রুমা দাশের সঞ্চালনায় এবং উপাচার্য এম এম নুরুল আবসারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন ইয়ংওয়ান করপোরেশন ও কেইপিজেডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কিহাক সুং। স্বাগত বক্তব্য দেন কেইপিজেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান। এতে আরও বক্তব্য দেন সিআইইউর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান লুৎফি এম আইয়ুব, সদস্য সৈয়দ মাহমুদুল হক প্রমুখ।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ প্রসঙ্গে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এই সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের। বাংলাদেশের অধিকাংশ তেল-গ্যাস ওখান থেকেই আসে। ফলে সেখানে যুদ্ধ মানে আমাদের সাপ্লাই চেইন অনেকটা বন্ধ হয়ে যাওয়া। তবে সংকট মোকাবিলায় সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে। সারা বিশ্ব থেকে তেল-গ্যাস আমদানির প্রক্রিয়া চলছে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যে হারে আমাদের কিনতে হচ্ছে, তাতে দেশের বাজেট, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং সাধারণ মানুষকে দেওয়া সামাজিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিগুলোর ওপর প্রভাব পড়বে।’
রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ানো প্রসঙ্গে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করলে এর জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘মূল্যস্ফীতির ওপর এই সংকটের প্রভাব নিশ্চিতভাবেই পড়বে। তেলের দাম বাড়লে সার ও খাদ্যপণ্যের দামও বাড়বে। যদিও বর্তমানে আমরা অনেক দেশের তুলনায় ভালো অবস্থানে আছি। যেমন আমেরিকায় তেলের দাম কয়েক গুণ বেড়ে গেলেও আমরা এখনো ডিজেলের দাম বাড়াইনি।’
তবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে এবং জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে একটি পর্যায়ে গিয়ে আমাদের হয়তো দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।’
জ্বালানি খাতে সরকারের অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের প্রথম লক্ষ্য হলো জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যদিও অনেক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তবু এ ক্ষেত্রে আমাদের হাতে কোনো বিকল্প নেই। কারণ, জ্বালানিনিরাপত্তায় আপস করার অর্থ হলো মিল-ফ্যাক্টরি, মানুষের দৈনন্দিন জীবন, উৎপাদনব্যবস্থা, এমনকি কৃষিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এ পর্যন্ত আমরা জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পেরেছি। ক্রয়প্রক্রিয়া চলছে, জাহাজ আসছে এবং এখন পর্যন্ত আমরা বড় কোনো সমস্যায় পড়িনি। ঈদের সময় সবাই যাতায়াত করেছে, মিল-ফ্যাক্টরিগুলোও আগের মতো চলছে।’
বিশ্বব্যাপী সরবরাহব্যবস্থার ওপর চাপ পড়ার কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে এবং কমবেশি সব দেশই এর দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের জন্য আশার কথা, আমাদের রেমিট্যান্স–প্রবাহ বাড়ছে এবং গার্মেন্টস খাত আবারও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। রপ্তানি বাণিজ্যও বাড়ছে। আমাদের উদ্যোক্তাদের সহনশীলতার মাধ্যমে আমরা এই সাময়িক অর্থনৈতিক আঘাত কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হব বলে আশা করি।’
পুঁজিবাজার নিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘পুঁজিবাজারের সমস্যা সম্পর্কে আপনারা শিগগিরই শুনতে পাবেন; সেখানে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। আমরা পুঁজিবাজারকে বিনিয়োগকারী এবং যারা লিস্টেড হবে, তাদের জন্য একটি সত্যিকারের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে বড় বড় বিনিয়োগের জন্য এত দিন সবাই ব্যাংকের ওপর নির্ভর করত, যা ব্যাংকিং খাতে সমস্যার সৃষ্টি করেছে। আমরা চাই, বড় বিনিয়োগগুলো যেন পুঁজিবাজার থেকে আসে। এতে বিনিয়োগকারীরা ও তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো স্বস্তি পাবে এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।’