পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানও উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন। তিনি গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি সভায় যোগ দেন।

জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বর মাসেই উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশে মেট্রোরেল চালু হবে। একনেক সভায় এই তথ্য জানান প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ ছাড়া ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাস নাগাদ আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ শেষ হবে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে। ইতিমধ্যে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল সম্প্রসারণে জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে শামসুল আলম বলেন, প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে উত্তরা-আগারগাঁও অংশের কাজ শেষ হবে।

এদিকে মেট্রোরেল প্রকল্পে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার বাড়তি খরচ যোগ করে প্রকল্প সংশোধন করা হয়েছে। একনেক সভায় সংশোধিত প্রকল্পটি পাস হয়েছে। তাতে প্রকল্পের খরচ দাঁড়াল ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। মূলত মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার বাড়তি অংশ নির্মাণ, প্রতিটি স্টেশনে ওঠানামার জন্য নতুন জমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন নতুন অনুষঙ্গ যুক্ত হওয়ায় এ খরচ বেড়েছে।

জানা গেছে, একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী অনুশাসন দিয়েছেন যে বেশি যাত্রী ওঠানামা করবে এমন মেট্রোস্টেশন যেমন ফার্মগেট, সচিবালয়, কমলাপুর স্টেশনে যেন পর্যাপ্ত জায়গা রাখা হয়। প্রধানমন্ত্রী আরও নির্দেশনা দেন, ফরিদপুরসহ ওই এলাকা থেকে আসা ট্রেন কমলাপুর রেলস্টেশনের পরিবর্তে বিমানবন্দর রেলস্টেশনে গিয়ে যাতে থামে। এতে বিদেশগামী যাত্রীদের সুবিধা হবে।

এ ছাড়া একনেক সভায় অনুমোদন পাওয়া অন্য সাত প্রকল্প হলো চট্টগ্রাম-রাঙামাটি জাতীয় মহাসড়কের হাটহাজারী থেকে রাউজান পর্যন্ত চার লেনে উন্নীত করার সংশোধিত প্রকল্প; ইটাখোলা-মঠখোলা-কটিয়াদী সড়ক ও নয়াপাড়া-আড়াইহাজার নরসিংদী-রায়পুরা দুটি আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মানে প্রশস্ততায় উন্নীত করা; ময়মনসিংহ কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহের জন্য ধনুয়া থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ; ইলেকট্রনিক ডেটা ট্র্যাকিংসহ জনসংখ্যাভিত্তিক জরায়ু-মুখ ও স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিং কর্মসূচি; খাগড়াছড়ি শহর ও তৎসংলগ্ন অবকাঠামো নদীভাঙন হতে সংরক্ষণ; উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন; বৃহত্তর দিনাজপুর জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন