গত দুই দিনে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, ইআরডি সচিব শরিফা খানসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন রেইজার। বৈঠকে বাজেটে সহায়তার অর্থ পাওয়ার পাশাপাশি আগামী তিন বছরে নমনীয় শর্তের প্রায় ৬০০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ নিয়েও আলোচনা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে মার্টিন রেইজার আরও বলেন, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ, কোভিডের প্রভাব, জলবায়ু পরিবর্তনের সংকটের ফলে বিশ্ব অর্থনীতি নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশ্বের প্রতিটি দেশ অর্থনীতির চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। তিনি আরও বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতি, আর্থিক খাত শক্তিশালী করা এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির মধ্যমে বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে টেকসই করতে পারে। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে পুরোপুরি সহায়তা দেবে।

মার্টিন রেইজারের সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের নবনিযুক্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুলায়ে সেক। তিনি ভুটানেরও কান্ট্রি ডিরেক্টর। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে আবদুলায়ে সেক বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন শুরু করবেন।

বর্তমানে দেশের ৫৫টি প্রকল্পে প্রায় দেড় হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে বিশ্বব্যাংক। গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ ৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) থেকে নমনীয় শর্তে ঋণ পেয়ে থাকে। আইডিএর অন্যতম বড় ঋণগ্রহীতা বাংলাদেশ।

সরকারের আশা

বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে চলতি অর্থবছরে (২০২২-২৩) ৫০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা পাওয়ার আশা করছে সরকার। বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রেইজারের সঙ্গে বৈঠক শেষে গত রোববার অর্থমন্ত্রী এ আশা প্রকাশ করেন। এই ৫০ কোটি ডলারের মধ্যে ২৫ কোটি ডলার শিগগিরই পাওয়া যাবে। এ ছাড়া আইডিএ থেকেও ৬০০ কোটি ডলারের বেশি পেতে পারে বাংলাদেশ।

এর আগে গত রোববার ইআরডি সচিব শরিফা খানের সঙ্গেও বৈঠক করেন মার্টিন রেইজার। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে পাইপলাইনে থাকা প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার দ্রুত ছাড়ের বিষয়ে আলোচনা হয়। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব অর্থনীতিতে কতটা পড়ছে, তা-ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় উঠে আসে। বৈঠকে জানানো হয়, বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ নয়টি পণ্য আমদানি করতে ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে ৮২০ কোটি ডলার অতিরিক্ত খরচ হয়েছে। তাই বাড়তি ব্যয় মেটাতে বিশ্বব্যাংকের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়া নিয়েও আলোচনা চলছে। আইএমএফ প্রাথমিকভাবে এ ঋণ দিতে রাজি হয়েছে।