২ লাখ ৬০ হাজার টন জ্বালানি তেল আনা হচ্ছে, ক্রয় কমিটিতে অনুমোদন
দেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে মোট ২ লাখ ৬০ হাজার টন জ্বালানি তেল সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল ও বাকি ১ লাখ ৬০ হাজার টন ডিজেল কেনা হচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এর আগে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে এই তেল আমদানির প্রস্তাব নিয়ে আসা হয়।
বৈঠকের পর যোগাযোগ করা হলে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘জ্বালানি তেল এই সময়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাই জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাব আমরা অনুমোদন করেছি।’
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে ‘আবীর ট্রেড অ্যান্ড গ্লোবাল মার্কেটসের’ কাছ থেকে এই অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করা হবে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিপ্রেক্ষিতে জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য বিঘ্ন মোকাবিলা ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা স্বাভাবিক রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এ বাস্তবতায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুততার সঙ্গে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহের লক্ষ্যে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে অপরিশোধিত তেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জরুরি ভিত্তিতে এই এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল কেনার লক্ষ্যে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রস্তাবটি সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। পরে কমিটি তা অনুমোদন করেছে।
পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়ার পিটি বুমি সিয়াক পুসাকো জাপিন নামের কোম্পানি থেকে ৬০ হাজার টন ডিজেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাবটিও প্রথম অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন নেওয়া হয় এবং তার পরপরই সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রস্তাবটি অনুমোদন করে।
এ ছাড়া বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আরেক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এক্সন মোবিল কাজাখস্তান ইনকরপোরেটেড (ইএমকেআই) থেকে এক লাখ টন ডিজেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাবটিও প্রথম অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয় এবং তার পরপরই সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হয়।
যা প্রত্যাহার হলো
এদিকে বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ হংকংয়ের ফালকো করপোরেশন লিমিটেড থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল কেনার আরেকটি প্রস্তাব নিয়ে আসে। তবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বৈঠক থেকে প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। আর্চার এনার্জি এলএলসি থেকে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে ৬০ হাজার টন ডিজেল কেনার আরেকটি প্রস্তাবও প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসি থেকে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতির মাধ্যমে এক লাখ টন ডিজেল কেনার আরেকটি প্রস্তাব আনা হলেও তা আলোচনা থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।