ফ্যামিলি কার্ডের ভাতা নিয়ে উপকারভোগীরা কী করছেন, যাচাই করা হবে: অর্থমন্ত্রী
ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীরা ভাতা নিয়ে কী করছেন, তার প্রভাব কী পড়ছে, তা মূল্যায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ভাতা পেয়ে উপকারভোগীরা স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রে কতটুকু এগিয়ে যাচ্ছেন, তা খতিয়ে দেখা হবে। রাজস্বের বড় একটি অংশ এই খাতে ব্যয় হবে, প্রতিবছরই বরাদ্দ দেওয়া হবে, ফলে সেই টাকা দিয়ে উপকারভোগীদের জীবনমানের উন্নতি হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে প্রভাব মূল্যায়ন করা হবে।
আজ সোমবার সচিবালয়ে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান–সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। কমিটির সভাপতি অর্থমন্ত্রী।
বৈঠকে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রশাসনিক ব্যয় পর্যালোচনা ও অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন (সংশোধন) নীতিমালা ২০২৬ চূড়ান্তকরণ ও ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬–এর খসড়া পর্যালোচনা ও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয় বৈঠকে।
বৈঠকে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার, সমাজকল্যাণ সচিব মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আখতার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রকৃত উপকারভোগীরা যাতে ফ্যামিলি কার্ড পান, সে কারণে বাছাই প্রক্রিয়ায় দলীয় লোক রাখা হয়নি বলে জানান অর্থমন্ত্রী। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষেরা যেন ফ্যামিলি কার্ড পান, সে বিষয়ে নজর দিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, চার বছরে ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। আগামী অর্থবছরে পাবে ৪১ লাখ পরিবার। ভাতা দেওয়ার কার্যক্রম প্রথম দিন থেকেই জাতীয় পরিচয়পত্রভিত্তিক (এনআইডি) করা হয়েছে। কেউ অন্য কোনো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় থাকলে এ কার্ড পাবেন না। সেটি কেউ গোপন করলেও অর্থ মন্ত্রণালয় ধরে ফেলবে।
এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, উপকারভোগী বাছাইয়ে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন যুক্ত থাকবে। বিএনপির সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামের আমিরেরা নিজেদের লোকদের যাতে এ কর্মসূচির আওতায় না নিয়ে আসতে পারেন, সে জন্য এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চার বছর পরপর নতুন করে ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগী চিহ্নিত করা হবে। যাঁদের জীবনমানের উন্নতি হবে, তাঁরা বাদ পড়বেন। তখন নতুন উপকারভোগীরা এই কার্যক্রমের আওতায় আসবেন।