আর চলতি ও পরের বছরে এশিয়ার প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে যথাক্রমে ৪ ও ৪ দশমিক ৩ শতাংশ করা হয়েছে, যা গত এপ্রিলে দেওয়া পূর্বাভাসের চেয়ে যথাক্রমে দশমিক ৯ ও দশমিক ৮ পয়েন্ট কম। ২০২১ সালে এ অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ছিল সাড়ে ৬ শতাংশ।

করোনা মহামারির পাশাপাশি বৈশ্বিক মুদ্রানীতির কঠোরতা ও রপ্তানি চাহিদা হ্রাস পাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর সঙ্গে চীনের কড়া কোভিড নীতি ও এর প্রভাবে ঋণে জর্জরিত আবাসন খাতের কথা উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে, চীনের ব্যাংকিং ব্যবস্থা এ কারণে ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

আইএমএফ বলছে, চলতি বছর চীনের প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়াতে পারে ৩ দশমিক ২ শতাংশ, যা এপ্রিলের পূর্বাভাসের চেয়ে ১ দশমিক ২ শতাংশ কম। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি আগামী বছর ৪ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতিগুলো পুঁজির দ্রুত বহির্গমন এড়াতে সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে বিচক্ষণতা দেখাতে হবে, তাহলে কিছু দেশে মুদ্রানীতির ওপর চেপে থাকা বোঝা কমতে পারে।

সংস্থার এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন বলেন, বছরের শুরু থেকে এশিয়ার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার গতি হারাচ্ছে। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল ছিল। মূল্যস্ফীতির রাশ টেনে ধরে তা স্থিতিশীল করতে মুদ্রানীতিতে আরও কঠোরতার প্রয়োজন হবে, কিন্তু এতে প্রবৃদ্ধির গতি আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায় বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।

প্রতিবেদনের পূর্বাভাস, ২০২১-২২ অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াতে পারে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা কমে দাঁড়াতে পারে ৬ দশমিক ১ শতাংশ।