৯৩৫ টন খেজুর ধ্বংস করছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস, কারণ কী
৯৩৫ টন খেজুর ধ্বংস করছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। গত বছরের শেষ দিকে ৩৪টি কনটেইনারে এসব খেজুর আমদানি করা হয়। কিন্তু মান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ায় তা নিলাম করা যায়নি। তাই এখন খেজুর ধ্বংস করা হচ্ছে। একই কারণে ধ্বংস করা হচ্ছে কমলা, পেঁয়াজ ও কাজুবাদামও। গতকাল সোমবার থেকে এই কার্যক্রম শুরু করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এদিকে আজ মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও এ খবর দেওয়া হয়েছে।
এনবিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, খেজুর, কমলা, পেঁয়াজ, কাজুবাদাম, সোডা অ্যাশ, ফিড গ্রেড লাইমস্টোনসহ ১২৬ কনটেইনার পণ্য ধ্বংস করা হচ্ছে। মূলত চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা নিলাম-অযোগ্য ও মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের উদ্যোগে চট্টগ্রাম বন্দর রিপাবলিক ক্লাবের পেছনে নির্ধারিত স্থানে এসব পণ্য ধ্বংসের কার্যক্রম শুরু হয়। ধ্বংসের কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, গত বছরের শেষ দিকে খেজুরসহ অন্যান্য ফলের চালানগুলো আমদানি হয়। ৩৪ কনটেইনারে ৯৩৫ টন খেজুর এসেছে। মূলত প্ল্যান্ট কোয়ারেন্টাইন বা উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ বিভাগের মান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ায় অর্থাৎ নিম্নমানের হওয়ায় এসব ফল খালাস করা হয়নি।
তিনি আরও জানান, সোডা অ্যাশের চালান ২০১১ ও ২০১৩ সালে আমদানি হয়। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় নিলাম–অযোগ্য হয়। এর মধ্যে আছে ৪০ কনটেইনার মেয়াদোত্তীর্ণ সোডা অ্যাশ এবং ১৮ কনটেইনার মেয়াদোত্তীর্ণ ফিড গ্রেড লাইমস্টোন।
এনবিআরের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন বন্দরে পড়ে থাকা এসব পণ্য নিলামের উপযোগী না হওয়ায় ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পচনশীল ও ক্ষতিকর পণ্য বন্দরে পড়ে থাকায় একদিকে যেমন জায়গা দখল হয়ে থাকে, অন্যদিকে পরিবেশ ও বন্দরের নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি তৈরি হয়। ধ্বংস কার্যক্রমে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিজিবি, আনসার এবং স্থানীয় বন্দর থানা-পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত থেকে নিরাপত্তা ও সার্বিক সহযোগিতা করছেন।
এনবিআর আরও বলেছে, চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা পচনশীল ও ক্ষতিকর পণ্য ধ্বংসের ফলে বন্দরের কনটেইনার জট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। বন্দরের নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিলাম-অযোগ্য ও ধ্বংসযোগ্য পণ্য পর্যায়ক্রমে ধ্বংসের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।