জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিকে (ইপিএ) দেশের ইতিহাসের উজ্জ্বল দ্বিপক্ষীয় চুক্তির উদাহরণ বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, এই ইপিএ ভবিষ্যতে দেশের বাণিজ্য খাতকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে। এতে শুধু বাণিজ্য সুবিধাই বাড়বে না। জাপানের বিনিয়োগও বাড়বে বাংলাদেশে। এ ছাড়া তৈরি হবে কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং উভয় দেশের মধ্যে প্রযুক্তি হস্তান্তর হবে।
জাপানের সঙ্গে ইপিএ সই হয়েছে গত শুক্রবার। এ উপলক্ষে আজ সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য উপদেষ্টা এ কথা বলেন। বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, কম সময়ে অর্থাৎ এক বছরে সাত দফা আলোচনা শেষে এ চুক্তি করা হয়েছে। দর-কষাকষি করার সময় জাপানের ১০০ থেকে ১৫০ জন সদস্যও থাকতেন।
জাপান বিশ্বের পাঁচ বড় অর্থনীতির একটি এবং বাংলাদেশ এত বড় একটি অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হতে পেরেছে—এমন মন্তব্য করে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ভারত ১৫ থেকে ২০ বছর চেষ্টা করে একটা চুক্তি করতে পেরেছে। বাংলাদেশ তা করেছে এক বছরের মধ্যে। স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর বাণিজ্য আরও উদার হবে। এ উদার বাণিজ্য থেকে সুবিধাভোগী হবেন বাংলাদেশের ভোক্তারা। তবে এ জন্য ব্যবসায়ীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি। নইলে ভবিষ্যতে তা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
স্থানীয় শিল্প যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে এবং শুল্ক আয় যে কমবে, তা থেকে সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা যে ১ হাজার ৭০টি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়েছি, তাতে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ বেশি নয়। বছরে ২০ কোটি টাকার কম।’
শুল্ক কমে ১৮ বছরে শূন্যে নামবে জানিয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা যখন এলডিসি থেকে উত্তরণ করব, বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) কাঠামোতে থেকে আমাদের বাণিজ্যকে উদার করতে হবে। সক্ষমতা তৈরির জন্য ১৮ বছর ধরে ব্যবসায়ীরা সময় পাবেন।’
শেখ বশিরউদ্দীন জানান, ‘আগে যেখানে শুধু পাঁচ তারকা হোটেল ও মোবাইলের দুটি খাত উন্মুক্ত ছিল, এখন ৯৮টি খাত উন্মুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের। আর ওরা (জাপান) উন্মুক্ত করেছে ১২০টি খাত। নার্স, শিল্প শ্রমিক, কেয়ারগিভার (বয়স্কদের সেবা) ও অন্য খাতে দক্ষ লোক নেবে জাপান। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারও যেতে পারবেন। একদিকে আমাদের জনশক্তি জাপান যাবে, অন্যদিকে জাপান বিনিয়োগ বাড়াবে বাংলাদেশে। ফলে আমাদের লোকদের চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।’
নিউমুরিং টার্মিনাল বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দরের ধর্মঘট চলছিল। আপাতত তা স্থগিত। এ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে যদি ধর্মঘট অব্যাহত থাকে, তাহলে রমজানের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। নির্বাচিত সরকার বন্দর সচল রাখতে যথাযথ ও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে আশাবাদী শেখ বশিরউদ্দীন।
ইপিএ নিয়ে বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘খাদ্য পণ্য, তুলা, সুতা ইত্যাদিতে এখনই শূন্য শুল্ক আছে। যন্ত্রপাতিতে আছে ১ শতাংশ। এগুলোসহ আমরা ১ হাজার ৩৯টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছি জাপানকে। কাজেই আমরা শিগগিরই তেমন কোনো রাজস্ব হারাচ্ছি না।’
বাণিজ্যসচিব বলেন, ‘চুক্তির একটি বিশেষ দিক আছে পোশাক পণ্য নিয়ে। পোশাকে আমরা এখনো শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাই। এ চুক্তির পরও এক ধাপ মূল্য সংযোজন করে রপ্তানি করার সুযোগ থাকবে। অর্থাৎ কাপড় আমদানি শেষে পোশাক তৈরি করে রপ্তানি করা যাবে।’
চুক্তি কবে থেকে কার্যকর হবে, জানতে চাইলে বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘জাপানের সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এটি ওঠার কথা এবং সেখানে অনুমোদিত হলেই এটি কার্যকর হয়ে যাবে। তবে আমাদের দিক থেকে অত তাড়াহুড়া নেই। কারণ, ২০২৯ সাল পর্যন্ত জাপানে আমাদের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার আছেই।’