গতকাল বিআইডিএসের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত ‘কোভিডের আর্থ-সামাজিক প্রভাব ও নীতিগত পদক্ষেপ: ভবিষ্যতের শিক্ষা’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ আয়াগো ওয়ামবাইল উপস্থাপনা দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক বিনায়ক সেন। 

উন্নত দেশে সরকারের বিভিন্ন ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি আছে। কিন্তু বাংলাদেশে সে রকম কিছু নেই। এখানকার মানুষ বিপদের সময় আপৎকালীন সঞ্চয়ের ওপর নির্ভর করে। বিআইডিএসের জরিপ বলছে,যাঁরা দ্রুততার সঙ্গে ২৫ হাজার টাকা জোগাড় করতে পারেন, তাঁরা অতটা অরক্ষিত নন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ২০২০ সালে সাধারণ ছুটির সময় যখন চূড়ান্ত সংকট বিরাজ করছিল, তখন ৩১ শতাংশ মানুষের দ্রুত ২৫ হাজার টাকা জোগাড় করার সামর্থ্য ছিল না। যদিও ২০২২ সালের মে মাসে সেই সংখ্যা অনেকটা কমেছে। এ সময়ে মাত্র ৪ শতাংশ মানুষ বলেছে, তাঁদের পক্ষে হুট করে ২৫ হাজার টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়।

সেমিনারে বিনায়ক সেন বলেন, ভালনারেবল বা অরক্ষিত মানুষের সংজ্ঞা নতুন করে নির্ধারণ করা উচিত। কারণ, জরিপের পরিসংখ্যান থেকে এটা পরিষ্কার, বিপদের সময় মানুষের আপৎকালীন সঞ্চয় প্রয়োজন। উন্নত দেশে সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা উন্নত, আমাদের মতো দেশে তা নেই। মানুষ এখানে বিপদে পড়লে বন্ধু ও আত্মীয়দের কাছ থেকে ধার করে। করোনাকালে অর্থাৎ ২০২০ সালে মাত্র ১৭ শতাংশ মানুষ নগদ সঞ্চয় ভেঙে বিপদ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পেরেছিল। 

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে সাংবাদিকেরা জিজ্ঞাসা করেন, কোভিডের প্রভাব নিয়ে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান জরিপ করেছিল। সেগুলোর সঙ্গে বিআইডিএসের এই জরিপের পার্থক্য কী। জবাবে বিনায়ক সেন বলেন, ‘আগামী এক মাসের মধ্যে নগর দারিদ্র্যের গতি-প্রকৃতি নিয়ে আমরা প্রতিবেদন দেব। তখন আমরা অন্যান্য বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে আমাদের জরিপের তুলনামূলক আলোচনা করব—কী পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, কীভাবে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে ইত্যাদি।’ 

আয়াগো ওয়ামবাইল জরিপের প্রকৃতিতে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা মূলত ২০১৬ সালের খানা আয়–ব্যয় জরিপের ভিত্তিতে এই জরিপ পরিচালনা করেছি। অর্থাৎ কিছুটা পুরোনো তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এটা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপিত হার ব্যবহার করে হিসাব করা হয়েছে।’ 

এ পরিপ্রেক্ষিতে বিনায়ক সেন বলেন, প্রবৃদ্ধি বাড়লে দারিদ্র্য কতটা কমে তার স্থিতিস্থাপকতার ভিত্তিতে এই হিসাব করা হয়েছে। তবে মাঠে দারিদ্র্যের কী পরিস্থিতি, এই পরিসংখ্যান দিয়ে তা পুরোটা বোঝা যাবে না। সে জন্য ব্যষ্টিক পর্যায়ে বিপুল তথ্য জোগাড় করতে হবে। সে জন্য এই জরিপের ফলাফল থেকে দারিদ্র্য নিয়ে তেমন কিছু বলা যাবে না। 

এই জরিপ টেলিফোনে করা হয়েছে জানিয়ে বিআইডিএসের জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো কাজি ইকবাল কিছু সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, টেলিফোনে বড়জোর ১০ থেকে ১৫ মিনিট কথা বলা সম্ভব। কিন্তু দারিদ্র্য সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে হলে আরও বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত প্রয়োজন। সে জন্য এই জরিপের ফলাফল দিয়ে জাতীয় পরিসরে দারিদ্র্য পরিমাপ না করার পরামর্শ দেন তিনি।