সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ, রাষ্ট্রমালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের ক্ষেত্রে এ পরিপত্র প্রযোজ্য। বলা হয়েছে, ‘পেট্রল, অয়েল ও লুব্রিকেন্ট এবং গ্যাস ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে।’

চলতি অর্থবছরের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে পেট্রল, অয়েল ও লুব্রিকেন্টের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা। বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা। এর আগের অর্থবছরে ১ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা এ খাতে ব্যয় হয়েছিল। পেট্রল, অয়েল ও লুব্রিকেন্ট বাবদ বরাদ্দ থেকে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ ব্যয় করা গেলে ১ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এতে সাশ্রয় হবে ৪৮৯ কোটি টাকা।

গ্যাস ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দের পরিমাণ বাজেটে অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে উল্লেখ না থাকায় বরাদ্দ ও সাশ্রয়ের পরিমাণ জানা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের ২৫ শতাংশ সাশ্রয় করতে হবে বলে পরিপত্রে বলা হয়েছে। এতে কত বরাদ্দ আছে সে তথ্যও বাজেট সংক্ষিপ্তসারের কোথাও বলা নেই।

তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতের জন্য যে বরাদ্দ আছে, তা অন্য কোনো খাতে পুনঃ উপযোজন করা যাবে না অর্থাৎ সরিয়ে নেওয়া যাবে না বলেও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নির্দেশনা অমান্য করলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে ব্যাপারে কিছুই বলা হয়নি পরিপত্রে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে মন্ত্রিসভার সদস্যসহ সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সবাইকে বিদ্যুৎ ব্যবহারসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে মিতব্যয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এর আগে গত সোমবার চলমান জ্বালানিসংকট পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এবং জ্বালানি তেল আমদানি কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। পাশাপাশি ডিজেলচালিত সব বিদ্যুৎকেন্দ্র আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন