করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেছে এফবিসিসিআই
ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা পাঁচ লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। বর্তমানে এই করমুক্ত সীমা পৌনে চার লাখ টাকা। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের জনগণের ওপর করের চাপ কমাতে করমুক্ত আয়সীমা কমানোর প্রস্তাব করেছে এফবিসিসিআই।
আজ বুধবার আগামী বাজেট নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও এফবিসিসিআইয়ের যৌথ পরামর্শক সভায় এই প্রস্তাব দেওয়া হয়। এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান এই প্রস্তাব দেন।
রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আজ এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মোক্তাদির। এতে সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। সভায় বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীরা তাঁদের দাবিদাওয়া তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে করপোরেট কর কমানোর প্রস্তাবও করা হয়। নন-লিস্টেড কোম্পানির ক্ষেত্রে করহার সাড়ে ২৭ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ ছাড়া টার্নওভার কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার কথাও বলেছে এফবিসিসআই।
রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতসহ সব শিল্প খাতের ওপর যে ১ শতাংশ হারে উৎসে কর বসে, তা কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার কথা প্রস্তাব করেছে এফবিসিসিআই। এই করহার পাঁচ বছর অব্যাহত রাখার দাবি জানানো হয়।
দেশের সব ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের স্বার্থে স্থানীয় পর্যায়ে সব পণ্যের সরবরাহের ক্ষেত্রে ভ্যাট হার ২ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছে এফবিসিসিআই।
এ ছাড়া দেশে উৎপাদিত হয় না, এমন শিল্পের যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ, শিল্পের কাঁচামাল ও উপকরণের আমদানিতে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ আমদানি শুল্ক এবং দেশে উৎপাদিত হয়, এমন ধরনের যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ এবং শিল্পের কাঁচামাল ও উপকরণের আমদানিতে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে এফবিসিসিআই। এতে দেশি শিল্প সুরক্ষা পাবে বলে মনে করছে এফবিসিসিআই।
অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীদের শুল্ক-কর প্রস্তাব সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘শুল্ক-কর নিয়ে যতটা পারি করব। হয়তো পুরোটা পারব না, তবে ব্যবসা সহজ করতে আইনকানুন, নিয়মনীতি ব্যবসা সহায়ক করা হবে।’