একই সঙ্গে সংগঠনটি ৫ লিটার বোতলজাত সয়াবিন ৯৫৫ টাকা করার প্রস্তাব করেছে। বর্তমানে বোতলজাত ৫ লিটারের সয়াবিন তেলের বাজারমূল্য ৮৮০ টাকা। অর্থাৎ বোতলজাত ৫ লিটার সয়াবিনের দাম ৭৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি। এ ছাড়া প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রস্তাব করা হয়েছে ১৭৩ টাকা। প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৫৮ টাকায়। তাতে খোলা সয়াবিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে সয়াবিনের দাম বাড়ানোর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার। সাধারণত ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব যাওয়ার পরে তা যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রণালয়। আর এসব পণ্যের দাম বাড়ানো যৌক্তিক কি না, তা পর্যবেক্ষণ করে থাকে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন। এরপর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দিলে সেই অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।

এদিকে দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে বৈশ্বিক সংকটকে দায়ী করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনাসংক্রান্ত টাস্কফোর্সের চতুর্থ সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দাম বেড়ে যাওয়ায় মানুষের কষ্ট হচ্ছে। তবে বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম কমলেও আমাদের দেশে না কমার কারণ, ডলারের দাম বেশি। এ কারণে ভোক্তা কম দামের সুফল পাচ্ছে না।’

অতীতে দেখা গেছে, ভোজ্যতেল পরিশোধন কারখানার মালিকদের পক্ষ থেকে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়ার পরে বাজারে সয়াবিন তেলের কিছুটা সংকট দেখা দেয়। বেশি দামে সয়াবিন বিক্রির জন্য কিছু ব্যবসায়ী সয়াবিন তেল মজুত করে রাখেন। অবশ্য গত কয়েক দিন বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহে কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। বোতলজাত ও খোলা উভয় ধরনের তেলের সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

এর আগে গত ৩ অক্টোবর বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৪ টাকা ও খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৭ টাকা কমিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। এক মাসের ব্যবধানে সয়াবিন তেলের দাম আবার সমপরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন ভোজ্যতেল মিলমালিকেরা।