যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে মূল্যস্ফীতি মোকাবিলা করবে যুক্তরাজ্য

২০২৩ সালের মাঝামাঝি নাগাদ যুক্তরাজ্যের মোট দেশজ উৎপাদন ১ শতাংশ সংকুচিত হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য—উভয় দেশেই মূল্যস্ফীতি মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। গত জুলাই মাসে এ দুই দেশেই মূল্যস্ফীতির হার ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী নাদিম জাহাবি যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকার ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন জাহাবি। কীভাবে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির রাশ টেনে ধরা যায়, তার পথ বের করতেই নাদিমের এই সফর। তবে লেবার পার্টি এই সফরের সমালোচনা করে বলেছে, অর্থমন্ত্রীর উচিত, যুক্তরাজ্যেই বেশি মনোযোগ দেওয়া।

মূলত জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে যুক্তরাজ্যে মূল্যস্ফীতি আকাশ ছুঁয়েছে। রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি না কেনার নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে দেশটিতে জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়ছে। এমনকি আসন্ন শীতকালে দেশটির অনেক মানুষ জ্বালানির ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে দরিদ্র হয়ে যাবেন, এমন আশঙ্কাও করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের বিরুদ্ধে অন্যদের অভিযোগ, তারা মানুষের জন্য তেমন কিছু করছে না।

বস্তুত ইংল্যান্ড এখন প্রধানমন্ত্রীবিহীন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন পদত্যাগ করেছেন। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন। সাবেক অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক ও লিজ ট্রাস প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে আছেন। উভয়ই অঙ্গীকার করেছেন, নির্বাচিত হলে জনগণের কষ্ট লাঘবে তাঁরা ব্যবস্থা নেবেন।

কিন্তু গত এক-দেড় মাসে সরকারের নিশ্চুপ থাকা নিয়ে সরব হয়েছেন বিরোধীরা। ট্রেড ইউনিয়ন নেতা ফ্রান্সেস ও’ গ্রাডি জাহাবির যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। বিবিসির টুডে অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘শুনলাম, ট্রেড ইউনিয়নের নেতারা তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন, কিন্তু আমার মনে হয়, শ্রমজীবী মানুষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর দেখা করা উচিত ছিল...যাঁরা অন্তত মূল্যস্ফীতির সাপেক্ষে মজুরি বৃদ্ধির দাবি করে আসছেন।’

জানা গেছে, জাহাবি আর্থিক সেবায় সহযোগিতার জন্য নিউইয়র্কের ব্যাংকারদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এরপর ইউক্রেনকে সহযোগিতা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পূর্বাভাস ও জ্বালানিনিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করতে ওয়াশিংটনে যাবেন।

বিবিসিকে জাহাবি বলেন, ‘এসব বৈশ্বিক চাপ বৈশ্বিক উদ্যোগের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে। আরও মজবুত ও ন্যায্য অর্থনীতি গড়তে আমি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলিতভাবে কাজ করতে আগ্রহী।’

মন্দার শঙ্কা

চলতি বছরের শেষ দিকে মন্দার কবলে পড়তে পারে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি। ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ব্যয় এ সংকট আরও ঘনীভূত করতে পারে। ইতিমধ্যে বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে জিডিপি সংকুচিত হয়েছে দেশটির। যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক ও আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকসের এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

২০২৩ সালের মাঝামাঝি নাগাদ যুক্তরাজ্যের মোট দেশজ উৎপাদন ১ শতাংশ সংকুচিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গবেষণায় গোল্ডম্যান স্যাকস জানিয়েছে, আগামী বছরের বার্ষিক উৎপাদনে দশমিক ৬ শতাংশ সংকোচন হতে পারে।

অর্থনীতিবিদ জারি স্টেইন বলেন, যুক্তরাজ্যে জীবনযাপনের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। এই চাপ আরও ঘনীভূত করেছে ক্রমবর্ধমান জ্বালানিসংকট।

গত সপ্তাহে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে এশিয়া বা ইউরোপ—সব স্থানেই অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। জ্বালানিসংকট, সুদহার বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি এভাবে চলতে থাকলে গোটা বিশ্বই মন্দার কবলে পড়বে বলেও আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদেরা।

ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবেলায় জরুরি আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের দাবি তুলেছেন অনেকে। এর মধ্যে আছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন ও ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের (বিওই) সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ চার্লি বিন।