কাপড়ের আড়ালে আনা পুরোনো আইফোনসহ বিভিন্ন ব্যান্ডের ১,৬৫৫ মুঠোফোন জব্দ

গতকাল সোমবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক গোয়েন্দাদের জব্দ করা মুঠোফোন। মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে এসব মুঠোফোন দেশে আনা হয়েছে

কাপড়ের চালান ঘোষণা দিয়ে হংকং থেকে আমদানি করা ১ হাজার ৬৫৫টি মুঠোফোন জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। জব্দ করা ফোনের মধ্যে ৬০০টি হচ্ছে শাওমি ব্র্যান্ডের রেডমি মডেলের নতুন মুঠোফোন। বাকি ১ হাজার ৫৫টি পুরোনো আইফোন ও  চীনা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মুঠোফোন।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর এসব তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, গতকাল সোমবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকায় চালানটি জব্দ করা হয়। এসব মুঠোফোনের দাম প্রায় পাঁচ কোটি টাকা।

শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চালানটি ‘নিট ফেব্রিকস’ বা কাপড় হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে পরীক্ষা করে কাপড়ের রোলের আড়ালে বিপুলসংখ্যক মুঠোফোন পাওয়া যায়।

প্রাথমিক গণনায় জব্দ করা ফোনের মধ্যে ৪৫০টি রেডমি ১৪সি এবং ১৫০টি রেডমি ১৫সি মডেলের। এ ছাড়া পুরোনো আইফোন ও বিভিন্ন চীনা ব্র্যান্ডের আরও ১ হাজার ৫৫টি মুঠোফোন পাওয়া গেছে।

গতকাল সোমবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক গোয়েন্দাদের জব্দ করা মুঠোফোন। মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে এসব মুঠোফোন দেশে আনা হয়েছে
ছবি: এনবিআর

এয়ার কার্গো সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, চালানটি হংকং থেকে ঢাকায় এসেছে। এর মোট ওজন ৮৯৫ কেজি এবং প্যাকেজ ছিল ২০টি। চালানটি গত ৩১ আগস্ট ঢাকায় এসে পৌঁছায়।

চালানটির আমদানিকারক হিসেবে থিয়ানিস অ্যাপারেলস লিমিটেডের নাম রয়েছে। পণ্যের ধরন হিসেবে ‘নিট ফেব্রিকস’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক গোয়েন্দাদের জব্দ করা মুঠোফোন। মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে এসব মুঠোফোন দেশে আনা হয়েছে
ছবি: এনবিআর

শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের বড় ধরনের অসংগতি রয়েছে। কাপড়ের রোলের মধ্যে মুঠোফোন লুকিয়ে আনার মাধ্যমে পণ্য গোপন এবং শুল্ক-কর ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছে।

জব্দ করা মুঠোফোনগুলোর মডেল, আইএমইআই নম্বর, নতুন না ব্যবহৃত—এসব তথ্য যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে ফোনগুলোর প্রকৃত মূল্য ও প্রযোজ্য শুল্ক-কর নির্ধারণ করা হবে। তদন্তে শুল্ক ফাঁকির ঘটনায় সরকারের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হবে।