১৫ বছর কর অবকাশ চায় সেমিকন্ডাক্টর খাত, এনবিআরের নাকচ
সেমিকন্ডাক্টর খাত থেকে ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ বা চিপ ও প্রসেসর ডিজাইন এবং উৎপাদন হয়ে থাকে। বিশ্বে বর্তমানে এ খাতের প্রায় ৮০০ বিলিয়ন বা ৮০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের বাজার রয়েছে। তবে বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে আছে। তাই বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে খাতটিতে ১৫ বছরের জন্য কর–অবকাশসুবিধা দাবি করেছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
জবাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অবশ্য কর–অবকাশসুবিধা পাওয়ার চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দিয়েছে ব্যবসায়ীদের।
ঢাকার আগারগাঁওয়ের রাজস্ব ভবনে আজ মঙ্গলবার প্রাক্-বাজেট আলোচনায় বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআইএ) নেতারা কর–অবকাশসুবিধা দাবি করেন। এ সময় ইলেকট্রনিকসহ মোট ৯টি সংগঠন তাদের বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরে। সংগঠনগুলোর বিভিন্ন প্রস্তাব বিবেচনার আশ্বাস দেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
আলোচনায় বিএসআইয়ের সভাপতি মো. আবদুল জব্বার বলেন, ‘৪০টি বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের সঙ্গে কাজ করছে। দেশে প্রতিবছর পড়াশোনা শেষ করে এ খাতের উপযোগী ২০ হাজার স্নাতক বের হচ্ছেন। তাই খাতটিতে বিদেশি বিনিয়োগ আনতে কর–অবকাশ দেওয়া প্রয়োজন।’
জবাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, ‘আমাদের ব্যবসায়ীদের কর–অবকাশের চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ব্যবসা করবেন, কর দেবেন। বেশি হোক, কম হোক কর দিতে হবে।
অনলাইনে ভ্যাট দিতে সমস্যার কথা জানায় বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির আহ্বায়ক মহসিন ভূঁইয়া বলেন, ‘বাধ্যতামূলক করা হলেও আমরা আগের পদ্ধতিতে ভ্যাট রিটার্ন দিচ্ছি। কারণ, সিস্টেম আপডেট করা হচ্ছে না।’ বিষয়টির দ্রুত সমাধানে কর্মকর্তাদের তাগিদ দেন এনবিআর চেয়ারম্যান।
বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল মার্চেন্ডাইজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক আবদুল ওয়াজেদ কাঁচামালের আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন। নয়তো উৎপাদন খরচ বাড়বে বলে জানান।
ছোটদের বাঁচানোর আকুতি
বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর চাপে ছোটরা ছাতু হয়ে যাচ্ছে বলে জানান বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘বড়দের সবকিছু দিয়ে দিলে আমরা কোথায় যাব? ছোটদের বাঁচান। এসব প্রতিষ্ঠানের আশ্রয় হতে পারে এনবিআর।’
এ সময় মো. জালাল উদ্দিন উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট–সুবিধা অব্যাহত রাখার দাবি জানান। পাশাপাশি লিখিত প্রস্তাবে ২০০ টাকার বদলে ৩০০ টাকা পর্যন্ত প্রতি কেজি বিস্কুটে ভ্যাট–ছাড় দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
অনগ্রসর মানুষের ব্যবহার্য পণ্য তৈরির কারখানাগুলোর প্রতি নজর দেওয়ার আহ্বান জানায় বাংলাদেশ অ্যালুমিনিয়াম ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির সভাপতি ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘ভাঙা জিনিস সংগ্রহ করে আমরা পণ্য বানাই। এখন যদি ফেরিওয়ালাদের কাছে ভ্যাট চাওয়া হয়, তাহলে তাঁরা মাথায় বাড়ি দিতে পারে।’ উৎপাদন পর্যায়ে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। যদিও এমন দাবি না করার কথা জানান এনবিআর চেয়ারম্যান।
বাংলাদেশ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রান্সফরমার অ্যান্ড সুইচগিয়ারসের সহসভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আল জিলানী উৎপাদনকারীদের ওপর শুল্ক হ্রাসের দাবি জানান এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের ট্রান্সফরমার আমদানিতে ৬১ শতাংশ শুল্কারোপের প্রস্তাব দেন।
সেচ পাম্পে আলাদা এইচএস কোড দিয়ে সুবিধা দেওয়ার দাবি জানান বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল মোটরপাম্প ইম্পোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের পরামর্শক আশরাফ হক। জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘কোন পাম্প কৃষিতে আর কোনটি বাসায় ব্যবহৃত হবে, বুঝব কীভাবে?’
বাংলাদেশ টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সমিতির সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, সোলার প্যানেল আমদানিতে এক ডলারের পণ্য তিন ডলারে মূল্যায়ন করে শুল্ক আদায় করা হয়। এটা বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি। বিষয়টি সুরাহা করার কথা জানান এনবিআর চেয়ারম্যান।
এ ছাড়া অ্যাকুমুলেটর ব্যাটারি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ লিথিয়াম গাইডলাইন তৈরির আহ্বান জানায়।