রিজার্ভ স্বস্তিকর বলেই চড়া দামে জ্বালানি কেনা যাচ্ছে

আহসান এইচ মনসুর

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভের যে পতন হয়েছিল, তা ঠেকানো গেছে। রিজার্ভ এখন বেশ সুসংহত পর্যায়ে আছে। এটি দেশের জন্য বিশাল স্বস্তির বিষয়।

কারণ, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, গ্যাস, সারসহ অন্যান্য পণ্যের দাম বেশ বেড়েছে। কিন্তু আমরা উচ্চমূল্যেই জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সার কিনতে পারছি।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রকৃত রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমেছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাতে পতন ঠেকানো সম্ভব হয় এবং রিজার্ভ বাড়তে থাকে। এখন রিজার্ভ স্বস্তিজনক অবস্থায় আছে। এ বিষয়ে দ্বিমতের কিছু নেই।

আরও পড়ুন

কিন্তু চিন্তার বিষয়ও আছে। দেশে বিনিয়োগ স্থবির হয়ে আছে। কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ হচ্ছে না। বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা যথেষ্ট ঋণ পাচ্ছেন না। রপ্তানিমুখী খাতের শিল্প–কারখানায় গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট চলছে। এসব শিল্প–কারখানায় গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট কাটানোর ব্যবস্থা করতে হবে। গ্যাস–বিদ্যুতের সংকট না কাটলে রপ্তানিমুখী শিল্পে নতুন বিনিয়োগ আনা কঠিন হবে। সংকট অব্যাহত থাকলে বিদ্যমান কারখানায় উৎপাদন কমে যেতে পারে। ফলে বিদেশ থেকে রপ্তানি আয় আসাও কমবে।

জ্বালানি তেল, গ্যাস, সারসহ নিত্যপণ্য আমদানি করতেই হবে। তাতে ডলার খরচ হবে। কিন্তু পর্যাপ্ত রপ্তানি না হলে ডলারের জোগান কমবে। তখন রিজার্ভ ধরে রাখা যাবে না।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিনিময় হারকে বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। ফলে বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকে। এখন মনে হচ্ছে, বিনিময় হারকে আমরা ‘ফিক্সড’ করে ফেলছি। বেচাকেনার সীমা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। সেই আগের মতোই বৈদেশিক মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণ করতে হস্তক্ষেপ করছি। রিজার্ভ ধরে রাখার দিকে বাংলাদেশ ব্যাংককে নজর দিতে হবে।