মোংলায় চারটির পর চট্টগ্রামেও একটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ

চট্টগ্রাম জব্দ হওয়া বিএমডব্লিউ ব্র্যান্ডের গাড়িছবি: প্রথম আলো

মোংলা বন্দরে চারটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দের পর এবার চট্টগ্রাম নগরের একটি বাসার গ্যারেজ থেকে বিএমডব্লিউ ব্র্যান্ডের একটি গাড়ি জব্দ করেছেন কাস্টমস গোয়েন্দারা। কর্মকর্তাদের প্রাথমিক তথ্য, গাড়িটি পূর্ণাঙ্গ গাড়ি হিসেবে আমদানি করা হয়নি। যন্ত্রাংশ হিসেবে আমদানি করে দেশে সংযোজনের পর অন্য একটি পুরোনো বিএমডব্লিউ গাড়ির নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে সেটি রাস্তায় চালানো হচ্ছিল।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরের রহমতগঞ্জের সাত্তার মঞ্জিলের গ্যারেজ থেকে গাড়িটি জব্দ করেন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের কর্মকর্তারা। জব্দ করা গাড়িটিতে ‘চট্ট মেট্রো-গ ১১-৩৬৫১’ নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করা হচ্ছিল। গাড়িটির বাজারমূল্য নিশ্চিত করতে না পারলেও কয়েক কোটি টাকা হতে পারে বলে ধারণা করছেন কর্মকর্তারা।

কাস্টমস গোয়েন্দাদের ভাষ্য, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে গাড়িটি যন্ত্রাংশ হিসেবে আমদানি করে স্থানীয়ভাবে জোড়া লাগিয়ে (অ্যাসেম্বল) পূর্ণাঙ্গ গাড়িতে রূপান্তরের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে কীভাবে এবং কোন চালানে গাড়িটির বিভিন্ন অংশ আমদানি হয়েছে, আমদানিকারক কে এবং এতে কী পরিমাণ শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হয়েছে—এসব বিষয় এখন তদন্ত করা হবে।

মোংলায় চার গাড়ি জব্দ

এর আগে আজ বৃহস্পতিবারই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মোংলা বন্দর দিয়ে চারটি বিলাসবহুল গাড়ি কয়েকটি অংশে ভাগ করে বা সিকেডি অবস্থায় আনা হয়েছে। আমদানির সময় সেগুলোকে পুরোনো গাড়ির যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর গাড়িগুলো জব্দ করেছে। প্রতিটি গাড়ির মূল্য এক কোটি টাকার বেশি বলে জানিয়েছে এনবিআর।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহম্মেদ আজ বিকেলে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, মোংলা বন্দর দিয়ে তিন–চার খণ্ডে কেটে আনা বিলাসবহুল গাড়িগুলো খালাসের আগেই জব্দ করা হয়েছে। তবে চট্টগ্রামে জব্দ করা বিএমডব্লিউ গাড়িটি যন্ত্রাংশের নামে আমদানি করে দেশে সংযোজন করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। বিস্তারিত তদন্তের পর গাড়িটি কীভাবে আমদানি করা হয়েছিল, কারা আমদানি করেছিলেন এবং এতে কত টাকা শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হয়েছে, তা বেরিয়ে আসবে।

পুরোনো গাড়ির নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার

কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সংযোজনের পর গাড়িটিতে অন্য একটি পুরোনো বিএমডব্লিউর নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করা হচ্ছিল। জব্দ করার সময় গাড়িটিতে ‘চট্ট মেট্রো-গ ১১-৩৬৫১’ নম্বরের নেম প্লেট পাওয়া যায়।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, গাড়িটির আমদানি ও স্থানীয়ভাবে সংযোজনের সঙ্গে মোহাম্মদ আইয়ুব নামে এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুবাই থেকে গাড়িটির বিভিন্ন অংশ বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমদানির পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে না।

চাবি না দেওয়ায় ক্রেনে তুলে নেওয়া হয়

সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, তথ্যের ভিত্তিতে আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরের রহমতগঞ্জের সাত্তার মঞ্জিলের গ্যারেজে অভিযান চালানো হয়। সেখানে বিএমডব্লিউ গাড়িটি পাওয়া যায়। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, অভিযানের সময় মোহাম্মদ আইয়ুব ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা গাড়িটির বৈধ আমদানি ও মালিকানা–সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। গাড়ির চাবিও দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। পরে ক্রেন ব্যবহার করে গাড়িটি ট্রাকে তুলে নিয়ে আগ্রাবাদে গোয়েন্দা অধিদপ্তরের কার্যালয়ের সামনে নেওয়া হয়।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহম্মেদ বলেন, জালিয়াতির মাধ্যমে গাড়িটি আমদানির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তা জব্দ করা হয়েছে। এর পেছনে কারা জড়িত, কীভাবে গাড়িটির বিভিন্ন অংশ আমদানি করা হয়েছে এবং এতে কত টাকা শুল্ক ফাঁকি হয়েছে—এসব বিষয় তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।